এলাকাবাসীর প্রতিবাদ; রাস্তা বন্ধ হলে ভোগান্তিতে পড়বেন কয়েকশ মানুষ
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের রাজপাড়া ও পাত্রিকুল গ্রামের শত বছরের পুরোনো একটি রাস্তা বন্ধের পাঁয়তারা চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। রাস্তাটি এখনো বন্ধ হয়নি। তবে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, রাস্তাটি বন্ধ হলে কয়েকশ মানুষের চলাচল, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজপাড়া ও পাত্রীকূল গ্রামের ওই রাস্তার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কমিশন কর্মকর্তা সত্যজিত দত্ত পুরকায়স্থ এলাকায় যান। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হয়ে রাস্তা বন্ধের আশঙ্কা ও তাঁদের আপত্তির কথা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, রাজপাড়া গ্রামের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় শত বছর ধরে এলাকাবাসী এই পথ ব্যবহার করছেন। এটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এলাকাবাসী জানান, রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে কয়েকশ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, মসজিদ-মাদ্রাসায় যাতায়াতকারী মানুষ, রোগী, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারীরা সমস্যায় পড়বেন। পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল শহরের সঙ্গে এলাকার যোগাযোগও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ এই পথ ব্যবহার করে আসছেন। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও জনসাধারণের ব্যবহৃত এই পথ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা এলাকাবাসীর জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের কারাবরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এক সদ্য বিধবা নারীর স্বামী মৃত্যুর পর চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে। তবে ওই নারীর কারাবরণের প্রকৃত কারণ, মামলার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা এবং ঘটনার আইনগত প্রেক্ষাপট আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে আদালত-নিযুক্ত কমিশনের সরেজমিন পরিদর্শনকে ঘিরেও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কমিশন কর্মকর্তা এলাকায় এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর জানতে পারেন যে বাদীপক্ষ কমিশনের সামনে উপস্থিত হবে না।
পরে কমিশন কর্মকর্তা বিবাদীপক্ষের বাড়িতে গেলেও তাঁকে কমিশনের সামনে উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। ফলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিবাদীপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করতে পারেননি।
এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী বিকাশ চন্দ্র দে (এডভোকেট মৌলভীবাজার জজ কোর্ট) উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী উপস্থিত থাকলেও তিনি কমিশনের সামনে আসেননি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে যেন কোনো পক্ষ জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটির প্রকৃত অবস্থা, ভূমি রেকর্ড ও জনসাধারণের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির ন্যায়সংগত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলা হয়, “শত বছরের ব্যবহৃত এই রাস্তা বন্ধ হলে এলাকার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন যোগাযোগের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই কোনোভাবেই যেন রাস্তাটি বন্ধ না হয়।”
তবে রাস্তাটি নিয়ে চলমান বিরোধের প্রকৃত আইনগত অবস্থান, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা, রাস্তাটি সরকারি বা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য রেকর্ডভুক্ত কি না এবং রাস্তা বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আইনগত অবস্থান—এসব বিষয় আদালতের নথি ও সরকারি রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
