বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় চারটি গরু ও ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজারের গরুর হাটসংলগ্ন রেললাইনের পূর্ব পাশে ফাঁকা জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারটি গরুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, একটি চোরাচালান চক্র ভারতীয় গরু চোরাচালানের মাধ্যমে বড়লেখায় নিয়ে আসছে। পরে এসআই মো. আবদুল করিম ও এসআই শেখ কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি গরুগুলো নামিয়ে পিকআপযোগে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারটি গরু উদ্ধার করা হয় এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার বিওসি কেছরীগুল (ডিমাই) গ্রামের আব্দুল আজিজ বচুর ছেলে শাহিন আহমদ (১৯) এবং একই গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে আফজল হোসাইন আইনুল (২০)। উদ্ধার করা চারটি গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, সোমবার রাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের গুলিস্তান এলাকায় ডেফলগাছের নিচে অভিযান চালিয়ে ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি মদসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সিএনজি অটোরিকশায় করে দেশীয় তৈরি মদ দক্ষিণভাগ বাজারের দিকে নেওয়া হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শেখ কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় রাজিব রবিদাস (২৬) ও রাজু রবিদাস (২৬) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানে মদ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ হাজার টাকা এবং জব্দ করা সিএনজির মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় বড়লেখা থানা পুলিশের মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইডসহ নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার ও জব্দ করা মালামালের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
