শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৪ বছর বয়সী এক গৃহপরিচারিকাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অপহরণের পর রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে মোঃ জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ভুক্তভোগী কিশোরী কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোডস্থ ডানিয়া বেগমের বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছায়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্ত দুলাল মিয়া, মোঃ জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল ও আল আমিন ইসলাম একটি অটোরিকশা নিয়ে এসে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাকে ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ইছবপুর গ্রামে আসামি দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে আসামিরা সারারাত কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালায়। পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসামিরা তাকে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সকাল ৯টার দিকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মুমূর্ষ অবস্থায় কিশোরীকে স্টেশন থেকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এবং উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযানে নামে। অভিযানে অংশ নেন এসআই হারুনুর রশিদ, এসআই ইমানুর, এসআই মিয়া নাসির, এএসআই নাজমুল ও এএসআই সঞ্জয়সহ পুলিশের একটি দল। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো:
দুলাল মিয়া (৩১), পিতা—সাদেক মিয়া, সাং—ইছবপুর (৩নং শ্রীমঙ্গল ইউপি), থানা—শ্রীমঙ্গল, জেলা—মৌলভীবাজার।
মোঃ জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬), পিতা—মোঃ তাউল মিয়া, স্থায়ী ঠিকানা: চানপুর, থানা ও জেলা—হবিগঞ্জ; বর্তমান ঠিকানা: মিশন রোড (জাকির মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা—শ্রীমঙ্গল।
আল আমিন ইসলাম (২০), পিতা—মোঃ মমিনুল ইসলাম, স্থায়ী ঠিকানা: রিচি, থানা ও জেলা—হবিগঞ্জ; বর্তমান ঠিকানা: সোনার বাংলা রোড, থানা—শ্রীমঙ্গল।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে ১ নম্বর আসামি মোঃ জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল বিজ্ঞ বিচারকের নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে পুলিশের সূত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমাদের পুলিশের একটি চৌকস টিম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অভিযান চালিয়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে এবং এ ঘটনায় জড়িত বা সহায়তাকারী অন্য কেউ থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
