Close Menu

    Subscribe to Updates

    Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.

    Subscribe on YouTube
    What's Hot

    বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনী মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও গ্রহণের আপডেট নিউজ

    November 5, 2026

    মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ, আড়ালে মাদকের কারবার? (তৃতীয় পর্ব)

    November 5, 2026

    বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ২০২৬: মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও গ্রহণ কার্যক্রম শুরু

    November 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    Thursday, November 5
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest Vimeo
    Amar Sylhet 24
    • প্রধান পাতা
    • সর্বশেষ
    • বাংলাদেশ
    • রাজনীতি
    • বাণিজ্য
    • বিনোদন
    • খেলা
    • ভিডিও
    Subscribe
    Amar Sylhet 24
    Home » মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ, আড়ালে মাদকের কারবার? (তৃতীয় পর্ব)
    বাংলাদেশ

    মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ, আড়ালে মাদকের কারবার? (তৃতীয় পর্ব)

    amarsylhetBy amarsylhetNovember 5, 2026No Comments8 Mins Read
    Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest Email

    সাংবাদিকতার পরিচয়, মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড ও নৈতিক দ্বিচারিতার এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন

    মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা। এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসা, মাদক পাচার এবং মাদকসেবনের বিস্তার রোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরি করা, মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান করা, সংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্বলতা তুলে ধরা এবং সমাজকে সতর্ক করা। কিন্তু যখন সাংবাদিকতার পরিচয়ধারী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধেই মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তখন প্রশ্নটি আরও গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়।

    যিনি সংবাদে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তিনিই যদি ব্যক্তিগতভাবে মাদক ব্যবসা, মাদক সরবরাহ, ব্যবহার কিংবা মাদকসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখোমুখি হন, তাহলে তাঁর সংবাদ ও ব্যক্তিগত আচরণের মধ্যে কী ধরনের নৈতিক সম্পর্ক রয়েছে?

    এটি শুধু একজন ব্যক্তির প্রশ্ন নয়; এটি সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব এবং সমাজের প্রতি পেশাগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

    মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ, কিন্তু নিজের অবস্থান কোথায়?

    সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই মাদক উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী আটক, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদ জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    কিন্তু অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণে এমন কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে সাংবাদিকতার পরিচয়ধারী কোনো কোনো ব্যক্তির নিজের বিরুদ্ধেই মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, কেউ মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক যোগাযোগ রক্ষা করেন, আবার কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে।

    এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য মনে রাখা জরুরি—মাদক ব্যবসা, মাদক সরবরাহ, মাদক পাচার এবং মাদক সেবন এক বিষয় নয়। এগুলোর প্রকৃতি, আইনি অবস্থান ও সামাজিক প্রভাব আলাদা। তাই সব অভিযোগকে এক করে দেখা যাবে না। তবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা বা সরবরাহের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

    প্রশ্ন হলো, যিনি সংবাদে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাঁর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে তিনি কতটা স্বচ্ছ? তাঁর সংবাদ কি সত্যিই জনস্বার্থে, নাকি সেটি নিজের অবস্থান আড়াল করার একটি কৌশল?

    সাংবাদিক পরিচয় কি মাদক ব্যবসার নিরাপত্তার ঢাল?

    সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে একজন ব্যক্তি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগের সুযোগ পান। এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তথ্য সংগ্রহ, জনস্বার্থে প্রশ্ন তোলা এবং অনিয়ম প্রকাশ করা।

    কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয়কে ব্যবহার করেন নিজেদের মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড আড়াল করতে কিংবা প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে চলতে। পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগের বিষয়কে গুরুত্বহীন করে তোলা, নিজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ঠেকানো কিংবা অন্যের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে আড়াল করার চেষ্টা—এসব অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    যদি কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয়কে মাদক ব্যবসার নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহার করেন, তাহলে সেটি শুধু পেশাগত নৈতিকতার লঙ্ঘন নয়; বরং আইন ও জননিরাপত্তার প্রশ্নও তৈরি করে।

    সাংবাদিক পরিচয় কাউকে তল্লাশি, তদন্ত বা আইনের আওতার বাইরে রাখে না। বরং সাংবাদিক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আরও বেশি—নিজের অবস্থান স্বচ্ছ রাখা এবং কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি না করা।

    মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও সাংবাদিকতার স্বার্থের সংঘাত

    কিছু ক্ষেত্রে মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যবসা, মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকা স্থান কিংবা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ধারীদের যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    কোনো ব্যক্তি যদি মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করেন, তাহলে তাঁর সংবাদ সংগ্রহ, সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।

    এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—মদ বা অ্যালকোহল বিক্রির সব প্রতিষ্ঠান বেআইনি নয়। আইনসম্মত অনুমোদন ও লাইসেন্সের আওতায় পরিচালিত ব্যবসাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীন বিক্রি, আইন লঙ্ঘন কিংবা মাদকদ্রব্যের অবৈধ বেচাকেনার অভিযোগ থাকলে তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    একইভাবে কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেই তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী বলা যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যবসার প্রকৃতি, অনুমোদন, কার্যক্রম এবং তাঁর প্রকৃত ভূমিকা যাচাই করেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

    তবে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যবসাকে প্রশাসনিক নজরদারি থেকে রক্ষা করা, অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বীকে চাপে রাখার চেষ্টা হলে তা জনস্বার্থের গুরুতর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

    মাদকসেবনের অভিযোগ ও নৈতিক দ্বিচারিতা

    মাদকসেবন এবং মাদক ব্যবসা এক বিষয় নয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকসেবনের অভিযোগ থাকলেই তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী বলা যায় না। আবার ব্যক্তিগত মাদকসেবনের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে প্রকাশ্যে অপমান করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ নয়।

    তবে একজন সাংবাদিক যদি নিয়মিত মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করেন, অথচ তাঁর নিজের মাদকসেবনের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বা অভিযোগ সামনে আসে, তাহলে তাঁর পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

    এখানে আলোচনার বিষয় ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি করা নয়। বরং প্রশ্ন হলো—যিনি সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান, তাঁর নিজের আচরণ ও পেশাগত বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না?

    কেউ মাদকাসক্তির সমস্যায় থাকলে তাঁকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁকে অপমান বা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা সমাধান নয়। কিন্তু সেই সমস্যাকে ব্যবহার করে যদি কেউ মাদক ব্যবসা বা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে সেটির জবাবদিহি আলাদা বিষয়।

    মাদকবিরোধী সংবাদ কি কখনো নিজের অবস্থান আড়াল করার কৌশল?

    আরও একটি প্রশ্ন বিবেচনার দাবি রাখে—কোনো ব্যক্তি কি মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে নিজের মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করতে পারেন?

    এটি একটি সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত, তবে শুধু মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করলেই এমন উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয় না। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ থাকলে তাঁর সংবাদ প্রকাশের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সংবাদ প্রকাশের সময়, তথ্যের উৎস এবং তাঁর নিজের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা অনুসন্ধান করতে হবে।

    কেউ যদি একদিকে মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করেন, অন্যদিকে নিজের সংশ্লিষ্টতা গোপন রাখতে সংবাদকে ব্যবহার করেন—তাহলে সেটি ভয়াবহ নৈতিক দ্বিচারিতা। কিন্তু এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে অনুমান নয়, যাচাইযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন।

    মাদক ব্যবসা, সংবাদ বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত সুবিধার অভিযোগ

    সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আগাম তথ্য দেওয়া, সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখার আশ্বাস দেওয়া কিংবা সুবিধার বিনিময়ে কোনো বিষয় আড়াল করার অভিযোগ থাকলে সেটি অত্যন্ত গুরুতর।

    আবার কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ বা অন্য সুবিধা আদায়ের অভিযোগও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

    এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সাংবাদিকতার নামে প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের গুরুতর উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী ঘোষণা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, স্বাধীন সূত্রের তথ্য, আর্থিক বা যোগাযোগসংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক উপাদান এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করতে হবে।

    সংবাদ প্রকাশের অধিকার কখনোই কাউকে ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায়ের অধিকার দেয় না। আবার সংবাদ প্রকাশ না করার বিনিময়ে সুবিধা গ্রহণ করাও পেশাগত নৈতিকতার পরিপন্থী।

    ছায়ার আড়ালে মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড: অনুসন্ধান কতটা জরুরি?

    মাদক ব্যবসার সব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে ঘটে না। অনেক সময় লেনদেন, যোগাযোগ, সরবরাহ ও বণ্টনের কার্যক্রম আড়ালে পরিচালিত হয়। সব ঘটনার মামলা হয় না, সব লেনদেনের লিখিত নথি থাকে না, আবার অনেক অভিযোগের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসাও থাকতে পারে।

    তাই মাদকসংশ্লিষ্ট অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একাধিক স্বাধীন সূত্র, প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, সময় ও ঘটনার ধারাবাহিকতা, প্রাসঙ্গিক ছবি-ভিডিও, যোগাযোগ বা লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    শুধু কারও বিরুদ্ধে প্রচলিত কথা, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী ঘোষণা করা যায় না। একই সঙ্গে প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগকে অনুসন্ধানের বাইরে রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়।

    আমার গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব বিষয়ে সব তথ্য যে সরকারি নথিতে পাওয়া যাবে, তা নয়। কিন্তু যেসব তথ্যের ভিত্তি রয়েছে, সেগুলো যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনা জরুরি।

    সংবাদমাধ্যম ও সম্পাদকের দায়িত্ব

    কোনো সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করা নয়; নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক বা প্রতিনিধিদের পেশাগত আচরণ সম্পর্কেও সচেতন থাকা।

    কোনো প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, মাদক সরবরাহ কিংবা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড আড়াল করার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ উঠলে সংবাদমাধ্যমের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। অভিযোগ সত্য হলে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা উচিত।

    একই সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত মাদকসেবনের অভিযোগ থাকলে সেটিকে জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা বিবেচনা করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বা আসক্তির বিষয়কে অযথা প্রচার করে কাউকে হেয় করা উচিত নয়। কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা পরিচয়ের অপব্যবহারের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকলে তা উপেক্ষা করা যায় না।

    সংবাদমাধ্যমের মালিক ও সম্পাদকদের মনে রাখতে হবে, পরিচয়পত্র দেওয়ার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নাম ও মর্যাদা জড়িয়ে থাকে। তাই প্রতিনিধি নিয়োগের পর তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকার সুযোগ নেই।

    মাদকবিরোধী সাংবাদিকতা আগে নিজের নৈতিক অবস্থান থেকে শুরু হোক

    মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা অবশ্যই প্রয়োজন। মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান, প্রশাসনের ভূমিকা যাচাই, তরুণদের সচেতন করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাস্তবতা তুলে ধরা সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

    কিন্তু এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক নিজেই যদি মাদকসংশ্লিষ্ট বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখোমুখি হন, তাহলে তাঁকে সেই অভিযোগের জবাব দিতে হবে। সাংবাদিকতার পরিচয় তাঁকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখে না।

    যে ব্যক্তি অন্যের অপরাধ তুলে ধরবেন, তাঁর নিজের আচরণও প্রশ্নের বাইরে থাকতে পারে না। কারণ সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু প্রকাশিত সংবাদ দিয়ে তৈরি হয় না; সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সততা, পেশাগত আচরণ এবং জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপরও তা নির্ভর করে।

    শেষ কথা: মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান শুধু সংবাদে নয়, আচরণেও

    মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলেই কেউ মাদকবিরোধী হয়ে যান না। আবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তিনি অপরাধী হয়ে যান না। সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং আইনসম্মত জবাবদিহি।

    সাংবাদিকতা কোনো মাদক ব্যবসার নিরাপত্তা, কোনো ব্যক্তিগত আসক্তি আড়াল করার পরিচয় কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হতে পারে না। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডকে সুরক্ষা দেন, সংবাদ গোপন করেন কিংবা অন্যকে ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায় করেন, তাহলে সেই কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত বকরা আদায় করার একটি সময়ে যখন সেটি গ্যাপ হয়ে যায় তখন তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করা (কেননা ঐ সময় তার কাছে বেশ থাকতো জমা থাকে) এটি সাংবাদিকতা কে অপব্যবহার করার নামান্তর নয় কি?

    এই আলোচনার উদ্দেশ্য সব সাংবাদিককে সন্দেহের চোখে দেখা নয়। বরং যারা সততা ও সাহসের সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, তাঁদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা করা এবং পরিচয়ের অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি তোলা।

    প্রশ্ন তাই থেকেই যায়—যিনি সংবাদে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন, তাঁর নিজের কর্মকাণ্ডও কি একই নৈতিক ও আইনি মানদণ্ডে যাচাই করা হবে না?

    সাংবাদিকতার পরিচয় সম্মানের; কিন্তু সেই সম্মান ধরে রাখতে হলে সংবাদে যেমন সত্য থাকতে হবে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত আচরণেও তেমনি সততা থাকতে হবে।

    লেখক: এম এ ইসলাম আশরাফী
    লেখক, কলামিস্ট ও সম্পাদক

    অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এম এ ইসলাম আশরাফী পেশাগত সততা মাদকবিরোধী সাংবাদিকতা সংবাদ বাণিজ্য সাংবাদিকতার নৈতিকতা
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email
    amarsylhet
    • Website

    Related Posts

    বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনী মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও গ্রহণের আপডেট নিউজ

    November 5, 2026

    বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ২০২৬: মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও গ্রহণ কার্যক্রম শুরু

    November 5, 2026

    মৌলভীবাজারে পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত অনুষ্ঠানে সকল ওসিদের প্রতি নির্দেশনা

    November 5, 2026

    Comments are closed.

    টপ পোষ্ট

    শ্রীমঙ্গলে আনান প্যাক থেকে মরদেহ উদ্ধার,মৃত্যুর কারণ রহস্যজনক

    January 23, 20261,101 Views

    শ্রীমঙ্গলে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ নিহত, দুইজনের পরিচয় শনাক্ত

    March 31, 2026980 Views

    শ্রীমঙ্গলে সিএনজি শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর ভাবে আহত, সড়ক অবরোধ

    April 12, 2026951 Views
    সোশ্যাল মিডিয়া
    • Facebook
    • YouTube
    অন্যান্য
    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনী মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও গ্রহণের আপডেট নিউজ

    By amarsylhetNovember 5, 20260
    বাংলাদেশ

    মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ, আড়ালে মাদকের কারবার? (তৃতীয় পর্ব)

    By amarsylhetNovember 5, 20260
    মৌলভীবাজার

    বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ২০২৬: মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও গ্রহণ কার্যক্রম শুরু

    By amarsylhetNovember 5, 20260
    Facebook YouTube
    • ভিডিও
    • রাজনীতি
    • সর্বশেষ
    © 2026 amarsylhet24.com

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.