নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আলোচিত গৃহবধূ শাবানা বেগম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর দুই আসামিকে যথাক্রমে সাত বছর ও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন আরও পাঁচ আসামি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াহিদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের নাসির মিয়া (২৬), বিল্লাল মিয়া (৩০), দুলাল মিয়া (২৬) ও গিয়াস মিয়া (২৫)।
আদালত তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
দুই আসামির কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
মামলার অপর দুই আসামির মধ্যে মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়াকে (৫০) দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, জয়নাল আবেদীনকে (৫৫) দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ে তাঁদের পূর্ববর্তী হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।
খালাস পেয়েছেন পাঁচ আসামি
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। তাঁরা হলেন—ভুনবীর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাশার মিয়া, জাবেদ মিয়া, হাসি বেগম, মো. আলী ইসলাম ও নাজমিন বেগম।
এ ছাড়া বিচার চলাকালে রাজা মিয়া, ছুরুক মিয়া ও ফারুক মিয়ার মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম আর এগোয়নি। মামলার রায়সংক্রান্ত একাধিক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
পানি নিষ্কাশনের বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিল শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামে বাড়ির পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জেরে শাবানা বেগমের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল মিয়া বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলায় মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। মামলাটির দায়রা নম্বর ৪৪/২০১৭ এবং সিআর নম্বর ৯৬/১৬।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলাটিতে মোট ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ জনকে আদালতে হাজির করে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ এবং পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসাইন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াহিদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে রায় নিয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলার রায়ে চারজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের কারাদণ্ড এবং পাঁচজনের খালাসের মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। তবে মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের অনুমোদনসহ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আপডেট নিউজ
