আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট-এমসি) মিলছে না দীর্ঘ দিনেও। এর ফলে শুধু সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাতেই অন্তত ১০৯টি মামলার তদন্ত কার্যক্রম ও চার্জশিট দাখিল চরম অনিশ্চয়তা ও জটলার মুখে পড়েছে। যথাসময়ে সনদ না পাওয়ায় একদিকে যেমন ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে ভুক্তভোগীদের, অন্যদিকে আইনগত বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে বিপাকে পড়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ছাতক উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ঘটে যাওয়া মারামারি, হামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় এসব মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার শাখা থেকে জখমী বা চিকিৎসা সনদ সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রয়োজনীয় এসব সনদ বা প্রতিবেদন হাতে আসছে না। ফলে আইনানুগভাবে তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট চূড়ান্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
বারবার তাগাদাতেও মিলছে না সুরাহা
নিয়ম অনুযায়ী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা মেডিকেল সনদের জন্য হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট শাখায় একাধিকবার লিখিত আবেদন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগ করা হলেও এবং বকেয়া প্রতিবেদন চেয়ে তাগিদপত্র পাঠানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মাসের পর মাস সনদ আটকে থাকায় আঘাতের ধরন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত দালিলিক প্রমাণ তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে ঝুলে রয়েছে এসব মামলার পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম।
আদালতের কঠোর নির্দেশনা
মেডিকেল সনদ না পাওয়ার কারণে তদন্তে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থার বিষয়টি সম্প্রতি সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। উভয়পক্ষের শুনানি ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত বকেয়া মেডিকেল সনদ ও প্রতিবেদনগুলো আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে সরবরাহ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই আদেশের পর দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনগুলো সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বাড়ছে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ
আইনজীবী ও সচেতন মহলের মতে, তদন্তের অপরিহার্য দলিল সময়মতো পাওয়া না গেলে চার্জশিট দাখিল বিলম্বিত হয়, যা প্রকারান্তরে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একটি মামলার সুষ্ঠু ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুলিশ প্রশাসন, আদালত এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর ও নিবিড় সমন্বয় অপরিহার্য। বিশেষ করে মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট শাখায় তৈরি হওয়া দীর্ঘসূত্রতার কারণ উদঘাটন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
যা বলছেন থানার ওসি
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন পিএএম ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ১০৯টি মামলার মেডিকেল সনদ না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সনদ না আসায় নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বকেয়া মেডিকেল সনদগুলো সরবরাহ করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের। এটি বাস্তবায়িত হলে ঝুলে থাকা মামলাগুলোর তদন্তে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরার পাশাপাশি দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
