মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভেতরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামনে এক প্রধান শিক্ষকের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শিষ্টাচার বহির্ভূত এই ঘটনায় গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষক মিঞা মোহাম্মদ শহীদুল রহমানকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী নাদিমুল হকের নিজ অফিস কক্ষে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
আহত মিঞা মোহাম্মদ শহীদুল রহমান উপজেলার দামিয়া আব্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন মিঠারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কক্ষে অবস্থান করছিলেন প্রধান শিক্ষক মিঞা মোহাম্মদ শহীদুল রহমান। এ সময় সহকারী শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন কক্ষে প্রবেশ করে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি থাপ্পড়, কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করা হয়। কক্ষে উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাধা দিয়েও হামলা থামাতে পারেননি।
খবর পেয়ে আহত প্রধান শিক্ষককে দেখতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হাসান। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাশিদা আক্তার বলেন, সরকারি দপ্তরে ঢুকে একজন শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত জঘন্য, নিন্দনীয় ও পেশাগত শিষ্টাচারবহির্ভূত। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সরকারি অফিসের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তিনি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে জোর সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক কক্ষে সংঘটিত এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় মৌলভীবাজারের সচেতন মহল ও স্থানীয় শিক্ষক সমাজে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
