আমার সিলেট ডেস্ক,ওয়াশিংটন ডি.সি.: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপুল সাফল্য অর্জন করেছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। রিপাবলিকানদের হারিয়ে মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও উচ্চকক্ষ সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই নিজেদের দখলে নিয়েছে তারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর মেয়াদে এটি তাঁর নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন ও ফলাফল সম্পর্কিত প্রধান তথ্য:
- কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য: এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের ৪৩৫টি প্রতিনিধি পরিষদ আসনের সবকটি এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদেও নির্বাচন হয়েছে।
- সিনেটে জয়ের হিসাব: সিনেটে প্রয়োজনীয় ৫১টি আসনের কোটা স্পর্শ করে নিজেদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে আইনসভার দুই কক্ষেই ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা হ্রাস পেল।
- স্পিকার হিসেবে হাকিম জেফ্রিস: নির্বাচনে জয়ের পর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার হতে যাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস। এর মাধ্যমে তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে হাউস স্পিকার হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবেন।
- উল্লেখযোগ্য জয়ের খবর:
- মিশিগানের ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেসে জায়গা করে নিয়েছেন একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান আইনপ্রণেতা রাশিদা তালিব।
- জর্জিয়া এবং সাউথ ক্যারোলিনায় ট্রাম্প-সমর্থিত বেশ কিছু প্রভাবশালী রিপাবলিকান প্রার্থী পরাজয় বরণ করেছেন।
- রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ।
ভোটের ট্রেন্ড ও ভোটারদের মনোভাব
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বুথফেরত জরিপ (AP VoteCast) অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের বেশ কিছু নীতি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ কাজ করেছে। বিশেষ করে তরুণ ও অশ্বেতাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন রিপাবলিকানদের হাত থেকে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ব্যাপকভাবে ধাবিত হওয়ায় এই নিরঙ্কুশ জয় সম্ভব হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় আগামী দুই বছর ট্রাম্পের নীতিমালা, যেমন—চীনা পণ্যে একক সিদ্ধান্তে নতুন শুল্ক আরোপ, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বাজেট পাসে ক্যাপিটল হিলের জোরালো বাধার সম্মুখীন হতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর ওপর ডেমোক্র্যাটদের নজরদারি ও তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার হবে। সূত্র:আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অনুসরণে
