বিশেষ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: পবিত্র মিলাদ শরীফে ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা’ পাঠ করে দাঁড়িয়ে কিয়াম আদায়ের অভিযোগে মৌলভীবাজার মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহ আলমের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় মৌলভীবাজারের জগন্নাথপুর এলাকাবাসীর ব্যানারে মডেল মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা ইমাম মাওলানা শাহ আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে ‘কী ফিতনা সৃষ্টি করেছেন’—এমন প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনকারীদের এক বক্তা বলেন, মাওলানা শাহ আলম মিলাদ শরীফ পরিচালনা করেছেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা’ পাঠ করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি সালাম নিবেদন ও কিয়াম করেছেন। এ বিষয়টি তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ইমাম মাওলানা শাহ আলমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি, বিগত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মতো বিভিন্ন অভিযোগও তুলে ধরা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে মডেল মসজিদ থেকে অপসারণের দাবি জানান বক্তারা।
অপরদিকে, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এক ব্যক্তি ইমাম মাওলানা শাহ আলমের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি ‘ইয়া নবী’ বলেছেন—‘নবী আবার ইয়া নবী হতে পারে?’ এ সময় তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক জিহ্বায় কামড় দিয়ে ‘সর্বনাশ করে ফেলেছে’ বলে মন্তব্য করেন।
কর্মসূচি থেকে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, মাওলানা শাহ আলমকে অবিলম্বে মডেল মসজিদের ইমামের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তার স্থলে নতুন ইমাম নিয়োগ দিতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ ও সচেতন মহলের কয়েকজনের দাবি, হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরান (র.)-এর স্মৃতিবিজড়িত এ অঞ্চলে প্রচলিত মিলাদ শরীফ এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশের বিষয়কে কেন্দ্র করেই মূল বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মিলাদ-কিয়ামকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্যকে সামনে রেখে ইমামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
তাদের আরও দাবি, ধর্মীয় এই মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে যাতে সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে মাওলানা শাহ আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
