নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী জুবা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার দায়ে দুই আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের মিরাশ উদ্দিনের ছেলে খলিল উদ্দিন (৩০) এবং একই গ্রামের মৃত ইশাদ উল্লাহর মো. গোলাম হোসেন (৩৫)।
মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন সেলিম সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাতে খলিল উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে যান ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী। পূর্বের অসুস্থতার কারণে কিশোরী শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হলেও খলিল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় বিষয়টি দেখতে পান খলিলের সহযোগী গোলাম হোসেন। পরবর্তীতে গোলাম হোসেনও ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে কিশোরী তাতে বাধা দেয়।
এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অপরাধ ধামাচাপা দিতে দুই লম্পট মিলে নৃশংসতার পথ বেছে নেয়। তারা ওড়না দিয়ে কিশোরীর হাত-মুখ বেঁধে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে মরদেহটি হরিনগর গ্রামের একটি ধানখেতে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পরদিন ২৭ ডিসেম্বর সকালে হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায় ধানখেত থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সুফি মিয়া বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট (Call Record) সূত্র ধরে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে। প্রথমে প্রেমিক খলিল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতে তার দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে অপর আসামি গোলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং মোট ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত আজ এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
