বিশেষ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ১ নম্বর বার ভবনের ভেতরে প্রকাশ্যে এক বিচারপ্রার্থীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংঘটিত এ ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি।
আইনজীবী সমিতির দেওয়া প্রতিবাদলিপি অনুযায়ী, সোমবার (৮ জুন) বেলা প্রায় ২টা ১৫ মিনিটে কতিপয় সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, রামদা, রড ও চাকু হাতে নিয়ে ১ নম্বর বার ভবনে প্রবেশ করে। তারা মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হরিদত্ত গ্রামের বাসিন্দা ও বিচারপ্রার্থী জসিম খানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর উপস্থিত আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় আহত জসিম খানকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত প্রাঙ্গণ প্রতিদিন শত শত আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে। এমন একটি স্থানে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অপরাধীদের নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতীক আদালত প্রাঙ্গণই যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপত্তা পাবে? দিনের আলোয়, বহু মানুষের উপস্থিতিতে সংঘটিত এমন হামলার পরও হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এক প্রতিবাদলিপিতে বলেন, এ ঘটনায় সমিতির সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে আইনজীবী সমিতি।
সচেতন নাগরিক ও আইনজীবী মহলের অভিমত, এটি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা নয়; বরং বিচারব্যবস্থা ও জননিরাপত্তার ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ। তারা দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
