নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কথিত বিকৃত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগে দায়ের করা সাইবার মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম মাসুম পারভেজ জাকারিয়া। মামলার এজহার অনুযায়ী তিনি এ মামলার ২ নম্বর আসামি। তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বড়বাড়ি সোনাপুর এলাকায়। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে একই মামলায় সৈয়দ তানভীর আহমেদ নামে আরেক আসামিকে শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এমপি এম নাসের রহমানের ছবি ব্যবহার করে AI প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি বিকৃত ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কারও বিরুদ্ধে বিকৃত, কুরুচিপূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ ও প্রচার গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কেবল ভিডিও নির্মাণকারীদের নয়, যারা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, শেয়ার বা প্রচার করেছেন কিংবা অপপ্রচারমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের ভূমিকাও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামি ও সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদকের নোট:
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখিনি—এটি এআই (AI) দ্বারা তৈরি নাকি বাস্তবতার নিরিখে কারো সম্মানহানির বিষয়, তা আমরা নিশ্চিত নই। মূলত মামলার সূত্র ধরেই আমাদের এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। লক্ষণীয়, এআই প্রযুক্তি হোক কিংবা অন্য যেকোনো উপায়েই হোক, কারো বিকৃত ছবি বা ভিডিও প্রচার করা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
