ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেতা আব্দুন নুরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজারে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বরাটুকা, চেলারচর, আলমপুর, ভাওয়াল, আনুজানিসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত মাহমুদুল হাসান ছালিকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুন নুরের ওপর অতর্কিত ও পরিকল্পিত হামলা চালায়। বক্তারা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তারা আরও বলেন, একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির ওপর প্রকাশ্যে এমন হামলা কেবল ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত করার শামিল। অবিলম্বে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, হামলার সময় আব্দুন নুরকে গুরুতরভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি তাকে গুম করারও অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মাহমুদুল হাসান ছালিকের সন্ত্রাসী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা মব সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমি জোরপূর্বক দখল এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সার্বিক আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক আশ্রয়ে আইনের ঊর্ধ্বে না থাকতে পারে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলা হয়, হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করা না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আলীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুল হান্নান, চন্দন মিয়া, নুরুল গনি, সাজুর আলী, গোলাম কিবরিয়া, আব্দুল আলী, আরজু মিয়া, সমরাজ মিয়া, আবু বকর ও মুসলিম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশ থেকে সর্বসম্মতিক্রমে—হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার, ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হয়।
