সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নিজের দুই শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগে কামরুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পারিবারিক অশান্তির জেরে সন্তানদের সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশের খালে ফেলে হত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কামরুল।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের মধুপুর এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম তাঁর দুই সন্তান—মোহাদ্দিছ মিয়া (৭) ও তুলনা আক্তারকে (৪) নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সে সময় সন্তানদের মা আফরোজা বেগম (২৫) গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
এরপর থেকে সন্তানদেরসহ কামরুল নিখোঁজ থাকেন। সন্তান ও স্বামীর খোঁজে আফরোজা বেগম স্থানীয়দের সহায়তায় এলাকায় মাইকিং ও আশপাশে বহু খোঁজাখুঁজি করেন। নিখোঁজের তিন দিন পর, গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে কামরুল একা বাড়িতে ফিরে আসেন।
স্বীকারোক্তি ও আটক
বাড়িতে ফেরার পর সন্তানদের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল প্রথমে ‘কিছুই জানেন না’ বলে চুপ থাকেন। পরবর্তীতে বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে শিশু দুটির মা ও স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে চেপে ধরলে তিনি দুই সন্তানকে খালে ফেলে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। এরপরই স্থানীয়রা তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে দিরাই থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত কামরুলকে আটক করে।
মরদেহ উদ্ধার
এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শান্তিগঞ্জের দামোধরতপী এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সেটি নিখোঁজ শিশু তুলনা আক্তারের (৪) বলে শনাক্ত করা হয়।
পরদিন বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের পাশ থেকে অন্য শিশু মোহাদ্দিছ মিয়ার (৭) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, পারিবারিক অশান্তির জের ধরেই কামরুল ইসলাম নিজ সন্তানদের হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
