জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভিডিওটির সত্যতা ও চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
ভাইরাল হওয়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবন করতে দেখা যায় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওতে থাকা একজন ব্যক্তি নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী এবং অন্যজন সারীঘাট ডুপি গ্রামের ফয়জুল ইসলাম বলে বিভিন্ন পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ভিডিওটির সত্যতা কিংবা এতে চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সারীঘাট ডুপি গ্রামের ফয়জুল ইসলামের নামে ব্যবহৃত একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রথম ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। পরে সেটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট, ভিডিও শেয়ার ও মন্তব্যও দেখা যায়।
এ বিষয়ে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, “ভিডিওতে আমার মতো দেখতে একজন ব্যক্তিকে দেখা গেলেও সেটি আমি নই। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাকে ফাঁসাতে এবং আমার মানহানি করতে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি প্রচারকারী ব্যক্তির সঙ্গে সালিশ-সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় শত্রুতার জের থেকেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
এদিকে, সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ভিডিওটির সত্যতা ও চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।”
