আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। কোশী প্রদেশের সুনসারি জেলার দেবগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাপ্তানগঞ্জে গত ২৬ জুলাই রাতে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী মধেশ প্রদেশের কয়েকটি জেলায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কারফিউ, ১৪৪ ধারা জারি, সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারসহ একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সংঘাতের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপ্তানগঞ্জ চকের একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে পূর্বে টানানো একটি ধর্মীয় পতাকা সরিয়ে সেখানে অপর সম্প্রদায়ের পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে একটি মন্দিরের কাছে উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বা ডিজে বক্সে ধর্মীয় গান বাজানো নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (APF) কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসন সুনসারি, সিরাহা, ধনুষা ও সপ্তরী জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী পার্সা (Parsa) জেলায় চলাচলে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সহিংসতা দমনে নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশের পাশাপাশি নেপালি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া রোধে সর্লাহীসহ বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশের জনগণকে শান্তি, সংযম ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
হতাহত
এ পর্যন্ত সংঘাতে ৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন—
- ওম প্রকাশ মেহতা (২৫): ২৬ জুলাই রাতে সুনসারির কাপ্তানগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত।
- জয় প্রকাশ মেহতা (২২): সুনসারির সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে বিরাটনগরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
- গণেশ যাদব (১৭): সিরাহা জেলার গোলবাজারে বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষ ও গুলিতে নিহত হন।
এছাড়া সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৬ জন নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
থমথমে পরিস্থিতি
প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনী টহল জোরদার করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
