“৪০ দিন পর লাশ উদ্ধার,পরকীয়ার জেরে হত্যার অভিযোগ-আটক ৪“
বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের র বসতপুর গ্রামে বসতঘরের ঢালাই করা মেঝে ভেঙে মাটি খুঁড়ে ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক দম্পতিসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ইকরামুল কবির পোর্ট থানার দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
আটককৃতরা হলেন— বসতপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে আল ফারাদ (২৫), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (২২), নিহতের মামাতো বোন কাকলী আক্তার (৩৪) ও ফজলুর রহমান (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ মুন্নি আক্তারের সঙ্গে নিহত ইকরামুলের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কে নিহতের মামাতো বোন কাকলী আক্তার সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে নিহতের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
সূত্র জানায়, গত ৮ এপ্রিল ইকরামুলকে কৌশলে অভিযুক্তদের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পরে মরদেহ গোপন করতে বসতঘরের মেঝের নিচে আগে থেকে খুঁড়ে রাখা গর্তে লাশ পুঁতে ফেলা হয়। এরপর মেঝেতে ঢালাই করে তার ওপর খড়ি রাখা হয়, যাতে বিষয়টি কেউ বুঝতে না পারে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ইকরামুলের খোঁজ না পেয়ে যশোর আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি শার্শা থানায় নথিভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে আটক আল ফারাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বসতঘরের ঢালাই মেঝে ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “আটক আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
