আমার সিলেট,নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার): চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অনন্য মেলবন্ধনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’। দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উৎসবের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর তিনি বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন এবং অতিথিদের সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। একই সঙ্গে কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম, ইকো-ট্যুরিজম এবং টেকসই পর্যটনের প্রসারে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি শুধু প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পর্যটন সম্পদে রূপান্তরিত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “শ্রীমঙ্গল শুধু চায়ের রাজধানী নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অঞ্চল। এখানে এবং এর আশপাশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও জীবনধারা জাতীয় সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ ও বর্ণিল করেছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ একদিন আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হবে। এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; বরং সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য মিলনমেলা। এবারের উৎসবে দেশের ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য উপস্থাপনা।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নেই। সব জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়ন এবং তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যেই নিহিত।
আগামী বছর শীত মৌসুমে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ আরও বৃহৎ, নান্দনিক ও আকর্ষণীয় পরিসরে আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এতে দেশ-বিদেশের আরও বেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মোল্লা।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, উপপরিচালক মুহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহিবুল্লাহ আকনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
উৎসবে দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও রয়েছে লোকজ ও কারুশিল্প মেলা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল এবং পর্যটনবিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী। পাশাপাশি টেকসই পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতি বিকাশের বিষয়ে আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’ আগামী ২১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উৎসব দেশের পর্যটন শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
