সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারের একটি নতুন ও সময়োপযোগী বিশেষ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এ কর্মসূচির মূল দর্শন হলো—“ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।”
তিনি বলেন, এই দর্শনের আলোকে দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী জরিপ কার্যক্রমসহ সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে এর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পরিবারকেন্দ্রিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র বা সুবিধা প্রদানের কার্ড নয়; এটি পরিবারকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ। তাই কর্মসূচিটির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় সিলেট জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম। বাগবাড়িস্থ সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রফিকুল হকের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. শরিফুল ইসলাম, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইদা পারভীন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তা পদ্মা সেন সিংহ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক।
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়, মৌলভীবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রাশেদুজ্জামান চৌধুরী, নিঃস্ব সহায়ক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার জামিল আহমদ চৌধুরী, মদনমোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শহর সমাজসেবা কার্যালয় সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আতাউর রহমান পীর, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, মদনমোহন কলেজের অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, সিলেট তথ্য অফিসের পরিচালক শুভ রায় সুমন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক তামান্না নাহার, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক এ কে এম সাইফুল হাসান, মৎস্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক দ্বিরাজ বর্মন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডা. আব্দুল কাহির, সুপারিনটেনডেন্ট এসএএস মোহাম্মদ নুরুল আমিন, সিলেট যুব একাডেমির পরিচালক এ এইচ এম ফয়সল, সিলেট বধির সংঘের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক হাজী এম আহমদ আলী, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহিনুর আলম, বিশ্বনাথ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বৃষ্টি, আফজালুর রহমান (ইউসিডি), হবিগঞ্জ, সমাজসেবা কর্মকর্তা এ কে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাব্বির সারোয়ার, শাহ মোহাম্মদ শফিউর রহমান, সুয়েব হোসেন চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম, প্রাণেশ চন্দ্র বর্মা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।
সেমিনারে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, মাঠপর্যায়ে জরিপ কার্যক্রম, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং কর্মসূচির সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
