লিখিত অভিযোগের পরও মেলেনি সমাধান, চার মাসের বিল ও জরিমানার শঙ্কায় গ্রাহকরা
আফজাল হোসেন রুমেল, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নিয়মিত বিতরণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় অর্ধশত পরিবারের গ্রাহক। কয়েক মাস ধরে বিলের কাগজ না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেননি তারা। এতে একদিকে বকেয়া বিলের পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে জরিমানা ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণভাগ এলাকার ৬৯২ নম্বর বইয়ের আওতাভুক্ত অধিকাংশ গ্রাহক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পাননি। এ সমস্যার সমাধান চেয়ে তারা গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি গ্রাহকদের।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিলের কাগজ না পাওয়ায় তারা বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিলের পরিমাণ সম্পর্কেও অবগত হতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে—টানা চার মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হয়ে রয়েছে। এতে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবারই আশ্বাস ছাড়া বাস্তব কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাদের ভাষ্য, “চার মাসের বিল একসঙ্গে পরিশোধ করা অনেক পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। এর সঙ্গে জরিমানা যুক্ত হলে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
দক্ষিণভাগ এলাকার খায়রুল, ছালিক, রফিক, শফিক, কয়েস, ফয়সাল, আব্বাস, ফখরুল, চেরাগ আলী, সাহিদ আহমদ, আমিনা, ফতিরা, অহিদ, মুহিত, সাদিক, রুবেল ও ছয়ফুল আলীসহ একাধিক গ্রাহক জানান, বিদ্যুৎ বিলের কাগজ না পাওয়ার কারণে তারা জরিমানা, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা এবং প্রশাসনিক হয়রানির শঙ্কায় রয়েছেন। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বিলের কাগজ বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যার কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। তারা দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বড়লেখা জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. খায়রুল বাকী খান বলেন, “গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, বকেয়া বিল ও সম্ভাব্য জরিমানার বিষয়ে গ্রাহকবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ বিতরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
