মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে ডাকাতির সময় গুলি করে অলিউর রহমান অলিদ নামে এক যুবককে হত্যা এবং ঘর থেকে মালামাল ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় দুই ডাকাতকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত দায়রা জজ (২য়) আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক পেনাল কোডের ৩৯৬ ধারায় এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মৃত আসক আলীর ছেলে ওসমান ফারুক এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার চুকারপুঞ্জী গ্রামের মৃত ইসমাইল আলীর ছেলে বকুল। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তারা উভয়েই পলাতক রয়েছেন।
যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টোকন ওরফে টুনু, রাজন; ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মজিবুর রহমান মেম্বার, ওয়াসিম, রতন; তারাকান্দা উপজেলার কামাল, সোবহান; এবং লতিফ খা ও রেহান ওরফে রায়হান ওরফে লিটন। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে লতিফ খা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আদায়কৃত জরিমানার অর্থ নিহত অলিউর রহমান অলিদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
মামলা চলাকালে আসামি পাখি, আসাদুল, নুনু ও লুকোজ মারা যাওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম স্থগিত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি সমাজে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার দিকে বড়লেখা উপজেলার শেওড়াদিখা গ্রামের কামরুল ইসলামের বাড়িতে ১৫-১৬ জনের একটি ডাকাতদল হামলা চালায়। তারা পরিবারের সদস্যদের বেঁধে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে। এ সময় কামরুল ইসলামের ভাই অলিউর রহমান অলিদ চিৎকার দিলে ডাকাতরা তাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কামরুল ইসলাম বড়লেখা থানায় ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
