মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে অপহরণের পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আব্দুল মতিন (৫৮) হত্যার ঘটনায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ ক্লুলেস হত্যা মামলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন তিন ভাই, এক বোন ও এক ভাবিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন সকালে ভাইদের সঙ্গে চলমান জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে মৌলভীবাজার আদালতে যান আব্দুল মতিন। আদালতের কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি কালো রঙের হাইএস মাইক্রোবাসে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি জানার পর পরিবার মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এ ধরনের কোনো আটকের কথা অস্বীকার করে।
সেদিন রাতেই সদর উপজেলার আপার কাগাবলা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে হাত-পা বাঁধা ও গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় আব্দুল মতিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ভুয়া ডিবি পরিচয়ে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামসহ একটি বিশেষ তদন্ত দল মাঠে নামে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, নিহতের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই নিহতের ভাই আব্দুল মজিদ হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য লোক নিয়োগ করেন। আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন তিনি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুই দিন আগেও যে ঘটনায় ‘ডিবি পরিচয়ে অপহরণ’ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনার তদন্তে এখন পারিবারিক জমিজমা বিরোধকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তবে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হত্যাকাণ্ডের সব দিক আরও স্পষ্ট হবে।
