আন্তর্জাতিক ডেস্ক,ঢাকা: ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে গত ১২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দেশের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যভাগ। গত ২৪ জুন (বুধবার) সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজার হাজার মানুষ আটকে থাকায় নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
প্রতিনিয়ত বাড়ছে পরাঘাত (আফটারশক) ও আতঙ্ক
বুধবারের মূল বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার উত্তর ভেনেজুয়েলার মারাকায় অঞ্চলে আবারও ৪.৯ মাত্রার একটি নতুন ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয় আবহাওয়া ও ভূবিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক আফটারশক (পরাঘাত) রেকর্ড করা হয়েছে। অনবরত মাটির কম্পনে আতঙ্কিত হাজার হাজার মানুষ ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন এবং কনভেন্ট ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রসহ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।
মানবিক সংকটে ৬৭ লাখ মানুষ, ‘লা গুয়াইরা’ দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (IOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রলয়ঙ্কারী দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৭.৬ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার মধ্যে কেবল রাজধানী কারাকাসেরই ২০ লাখ বাসিন্দা রয়েছে। উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মার-এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৫%) ভবন ইতিমধ্যে ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ উপকূলীয় ‘লা গুয়াইরা’ (La Guaira) অঞ্চলকে অফিশিয়াল দুর্যোগ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একই সাথে দুর্গত এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
চলছে উদ্ধার অভিযান, হাত বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়
ভেঙে পড়া বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করতে স্থানীয় উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও হাত লাগিয়েছেন। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের আশা তত ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই মানবিক সংকটে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মেক্সিকো এবং সুইজারল্যান্ড উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা
প্রাথমিক বৈশ্বিক ও সরকারি অনুমান অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো ও সম্পত্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪.৭ থেকে ৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি দেশের মোট জিডিপির (GDP) প্রায় ৪ থেকে ৮ শতাংশের সমান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমনিতেই অর্থনৈতিক চাপে থাকা দেশটির জন্য এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
