নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল:মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভুরভুরিয়া ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অলি মিয়া (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে ৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসন, ৪৬ বিজিবি ও শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শ্রীমঙ্গল ৪৬ বিজিবি অফিস সংলগ্ন বধ্যভূমি এলাকার ভুরভুরিয়া ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত অবস্থায় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত অলি মিয়া শ্রীমঙ্গল উপজেলার জালালিয়া রোড এলাকার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল করিমের ছেলে।
অভিযান চলাকালে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে অলি মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনাস্থলে হাতেনাতে আটক হওয়ার প্রেক্ষিতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৪(চ) অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান। এ সময় শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং মেজর মাহবুবুল হকের নেতৃত্বে ৪৬ বিজিবির একটি টিম অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে অবৈধ বালু এবং মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তবে অভিযানের পর স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি, যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন—শুধু একটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করলে অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তাদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। তাই পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগ পাওয়া সব এলাকাতেই নিয়মিত ও সমানভাবে অভিযান পরিচালনা করা। এতে অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
