নিজস্ব প্রতিবেদক,সিলেট: সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমকে পুনরায় সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার হস্তক্ষেপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন, প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দাবিগুলোর সত্যতা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারোয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তকে “জনস্বার্থে” নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
প্রত্যাহারের পর থেকেই ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, জনদাবি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার হস্তক্ষেপে সারোয়ার আলমকে আবারও সিলেটের ডিসি হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নথি, প্রজ্ঞাপন বা নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি যাচাইবিহীন তথ্য বা গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে সারোয়ার আলমের প্রত্যাহারের পর সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি অংশ তার পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, তিনি সাদাপাথর উদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়ায় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরাগভাজন হন। তবে এ দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ, বদলি বা পুনর্বহাল সম্পূর্ণ সরকারের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই কার্যকর হয়। এখন পর্যন্ত সারোয়ার আলমকে পুনর্বহাল সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পুনর্বহালের খবর কিংবা প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার হস্তক্ষেপের দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসব তথ্যকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রচার না করে যাচাই করে প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন নেটিজেনরা।
