সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় ঘরের ভেতর ঢুকে একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের মধ্যে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের গৃহপরিচারিকা রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবুল (৪০) নামের এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের পরিচয়
১. মো. আব্দুস সাত্তার (৯০): সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।
২. সুরাইয়া বেগম (৭৬): আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী।
৩. তাহমিনা/মালু বেগম (১৫): তাঁদের গৃহপরিচারিকা।
স্বজনরা জানান, আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। তিনি স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করতেন।
ঘটনার বিবরণ ও আলামত
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে ওই বাসা থেকে চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরবর্তীতে ঘরের দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে একটি কক্ষে আব্দুস সাত্তারের এবং অন্য একটি কক্ষে তাঁর স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার রক্তাত্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও সিআইডির প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা ভবনের দক্ষিণ দিকের দরজা ব্যবহার করে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সিঁড়িতে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘরের ভেতর আলমারি ও ওয়ারড্রব তছনছ অবস্থায় ছিল, যা দেখে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বা কোনো নথিপত্র চুরির উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য ও আটক
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, খবর পেয়ে সিআইডি, পিবিআই এবং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ডাকাতি, পূর্বশত্রুতা কিংবা পারিবারিক বিরোধসহ সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে বাবুল নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির জানান, আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
