ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট, নতুন বাজারের প্রবেশমুখ এবং গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে এসব এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক এবং গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ জমে রয়েছে। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট ও নতুন বাজারের প্রবেশমুখে প্রায় শতফুট এলাকাজুড়ে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় চালক শাহীন আহমদ জানান, গোবিন্দগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা এনে সড়কের পাশে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে ড্রেন ও নালা ভরাট হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে অনেক দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৃষ্টির পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের সামনে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ময়লা মিশ্রিত পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অনেককে নাকে রুমাল চেপে দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার স্তূপ ও জলাবদ্ধতা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, বৃষ্টির সময় দ্রুতগতিতে চলাচলকারী যানবাহনের চাকায় পচা পানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে পড়ছে। এতে যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। ময়লার স্তূপে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য থাকায় সেখানে কুকুর, গরু ও অন্যান্য প্রাণীর আনাগোনা বেড়েছে, ফলে পরিবেশ আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে।
গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টসংলগ্ন রেলপথ ও সড়কের দু’পাশেও ময়লার স্তূপ দেখা গেছে। এসব স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় অপসারণ না হওয়ায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এভাবে জলাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. অনিক সোম বলেন, “ময়লার স্তূপে জন্ম নেওয়া মাছি খাবারের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি জমে থাকা দূষিত পানি মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দ্রুত ময়লা অপসারণ ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।”
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গোবিন্দগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “গোবিন্দগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ও জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বৃষ্টির সময় হাঁটু পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কের পাশে অবৈধভাবে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সচেতন মহলের মতে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় গোবিন্দগঞ্জের জলাবদ্ধতা ও ময়লার ভাগাড় জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
