ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আপিলের মাধ্যমে তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে তার দাখিল করা আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে দাখিলকৃত নথিপত্র ও ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করে। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই–বাছাইয়ের সময় ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত নথির বিভ্রান্তি এবং সরকারি খাজনা বিষয়ক জটিলতার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এতে তিনি তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসনে প্রাথমিকভাবে প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যান।
মনোনয়ন বাতিলের দুই দিন পর, ৫ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেন। আপিল শুনানিতে কমিশন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, ব্যাখ্যা ও প্রমাণাদি যাচাই করে জানায়, মনোনয়ন বাতিলের কারণগুলো আইনি পরীক্ষায় টেকসই নয়। ফলে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
শুনানি শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মনোনয়ন যাচাই–বাছাইয়ের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে স্বাক্ষর সংক্রান্ত একটি ভুল ও কিছু নথিগত ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট করি। আল্লাহর রহমতে এবং নির্বাচন কমিশনের ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তে আমি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি। এখন আমার প্রধান লক্ষ্য—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও শক্তিশালী নির্বাচনী প্রচার এগিয়ে নেওয়া।”
দলীয় সূত্র জানায়, প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবরে ছাতক ও দোয়ারাবাজারে জাতীয় পার্টির নেতা–কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উদ্দীপনা ফিরে এসেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় নেতাদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে জাতীয় পার্টির অবস্থান আরও দৃঢ় করবে। প্রার্থিতা বাতিলের পর যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, আপিলের রায়ে তা কেটে গেছে বলেও জানান তারা।
গত শুক্রবার সকাল থেকেই ছাতকের নিজ বাসভবনে বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মী ও সমর্থকের সমাগম ঘটে। ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত সমর্থক ফুলেল শুভেচ্ছা, ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।
এদিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারাও জাহাঙ্গীর আলমকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের ন্যায়নিষ্ঠ সিদ্ধান্ত একটি ভুল সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও স্বাস্থ্যকর করবে।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ–৫ আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ একাধিক প্রার্থী জনসংযোগ, সভা–সমাবেশ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিএনপির সাবেক তিনবারের এমপি কলিম উদ্দিন মিলনও আসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় এ আসনে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যাবর্তন নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনী পরিবেশে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয়তা এলাকাজুড়ে ত্রিমুখী কিংবা বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ছাতক–দোয়ারাবাজার অঞ্চলের ভোটারদের মতে, কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বা অবৈধ হওয়া সরাসরি নির্বাচনী মাঠের গতি, প্রচারণার উদ্দীপনা এবং ভোটের হিসাব–নিকাশে প্রভাব ফেলে। তাই আপিলের রায়ে জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যাবর্তন পুরো নির্বাচনী পরিবেশকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে।
সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া সুনামগঞ্জ–৫ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষক, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ ভোটাররা।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
