দুই উপজেলাবাসীর এক দাবিই— “আমরা তাঁকে মন্ত্রী দেখতে চাই”
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট, যা ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ভোটারদের আস্থা ও সমর্থনের এক স্পষ্ট প্রতিফলন। এলাকায় এখন একটাই আলোচনা— “ছাতক–দোয়ারাবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে মিলন ভাইকে মন্ত্রী করা হোক।”
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১২১ ভোট। এছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটেও অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৪টি এবং ‘না’ ভোট ৭৬ হাজার ৫৩০টি।
চার দশকের রাজনীতিতে পরীক্ষিত নেতা
কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ছাত্রজীবনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদ প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বার জয়লাভ করেন। একই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং দ্রুত সাংগঠনিক দক্ষতায় নেতৃত্বের পর্যায়ে উঠে আসেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও দলীয় কর্মকাণ্ড ও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ২০১৭ সালে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
তৃণমূলের আস্থা ও উন্নয়নের প্রত্যাশা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফল তৃণমূলভিত্তিক সুসংগঠিত দলীয় কাঠামো, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ। দুই উপজেলার গ্রামাঞ্চল, হাওর ও বাজারগুলোতে তার পক্ষে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনোত্তর সময়ে ছাতক–দোয়ারাবাজারজুড়ে এখন একটাই প্রত্যাশা— স্থানীয় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
আলমপুর গ্রামের কৃষক সাইফুর উদ্দিন বলেন,
“আমরা ধান চাষ করে বাঁচি। কিন্তু রাস্তার অভাবে ন্যায্য দাম পাই না। এলাকার উন্নয়নের জন্য শক্ত অবস্থান দরকার। তাই চাই মিলন ভাই মন্ত্রী হোন।”
ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুর রহমান সামছু ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক একে রিপন তালুকদার বলেন,
“এই বিশাল ব্যবধানের জয় প্রমাণ করে মিলন ভাইয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কতটা দৃঢ়। তিনি মন্ত্রী হলে ছাতক–দোয়ারাবাজারের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।”
উপজেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান এমরান বলেন,
“এতো বড় ব্যবধানের জয়ের সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশাও বিশাল। ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের উন্নয়নে মন্ত্রণালয় পর্যায়ের নজর জরুরি।”
জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারাও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মিলনের ভূমিকা রয়েছে। তাকে মন্ত্রী করা হলে এ খাতগুলো আরও এগিয়ে যাবে।
উন্নয়ন–শান্তি–সমৃদ্ধির নতুন প্রত্যাশা
ছাতক–দোয়ারাবাজার অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নদীপথে চাঁদাবাজি, সীমান্ত এলাকায় মাদক প্রবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে শক্তিশালী পদক্ষেপের দাবি রয়েছে স্থানীয়দের।
বিপুল বিজয়ের পর এখন দুই উপজেলাবাসীর মুখে একটাই সুর— উন্নয়নের স্বার্থে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। নতুন প্রত্যাশার কেন্দ্রে তাই একটি নামই ঘুরপাক খাচ্ছে— কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
