শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর শ্রীমঙ্গলে পুলিশের সাময়িক বাধার মুখে পড়ে। পরে তারা বাধা অতিক্রম করে হবিগঞ্জের দিকে গেলেও শেষ পর্যন্ত শহরে প্রবেশ না করে রাতে মৌলভীবাজারে ফিরে আসেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমানা ঘেঁষা চা-কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। এ সময় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল।
পুলিশের সাথে প্রায় ঘন্টাখানেক বাকবিতণ্ডার পর এনসিপির নেতারা পুনরায় হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
এদিকে, হবিগঞ্জে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসন পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।
এ বিষয়ে এনসিপির নেতা সারজিস আলম বলেন, “হবিগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে জানানো হবে।”
পরে পুলিশের বাধার মুখে হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করতে না পেরে এনসিপির নেতারা হবিগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। এরপর তারা নিকটবর্তী কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। এ সময় তাদের উদ্দেশ্য করে ভুয়া ভুয়া স্লোগানসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
রাতেই তারা সেখান থেকে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে ফিরে আসেন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই শ্রীমঙ্গলে সাময়িকভাবে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। তারা আমাদের পরামর্শ না মেনে হবিগঞ্জের দিকে অগ্রসর হন। পরে শুনেছি, তারা হবিগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২৫-২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে আবার মৌলভীবাজারে ফিরে এসেছেন।”
শ্রীমঙ্গলে এনসিপির নেতাদের পথরোধ, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি এবং পরে বাহুবলে অবস্থান নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অপরদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ছিল দুই দিক থেকে লোকসমাগম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা। দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করায় সম্ভাব্য সেই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে অনেকে মনে করছে।
