ছাতকে ইজারাবিহীন চৈলতা ঢালায় অবৈধ ড্রেজারে রাতভর বালু লুটের প্রতিবাদে মানববন্ধন
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইজারাবিহীন মরা চেলা নদীর ‘চৈলতা ঢালা’ অংশে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর তলদেশ ও তীর কেটে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে সরকারি বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, বসতবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এরই প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে চৈলতা ঢালার নদী তীরে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের অন্ধকারে ড্রেজার ও লিস্টার মেশিন ব্যবহার করে নদীর তলদেশ এবং পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছে। পরে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০টি বাল্কহেডে করে সেই বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। নির্বিচারে বালু তোলার কারণে নদীর পাড়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই অবৈধ বালু উত্তোলন দ্রুত বন্ধ করা না হলে উত্তর রহমতপুর গ্রামের অন্তত ৪০টি পরিবারের বসতবাড়ি, একটি মসজিদ, সরকারি বেড়িবাঁধ, চলাচলের রাস্তা এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। চলমান বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সোনাপুর গ্রামের কৃষক আলী মিয়া, ইজিল করিম, ব্যবসায়ী আইনুল করিম ও শ্রমিক নেতা আতাউর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীর পাড়, সরকারি বেড়িবাঁধ ও স্থানীয় জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
