সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: হোটেল-রেস্টুরেন্ট সেক্টরের শ্রমিকদের ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত এবং সরকারি গেজেট বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া। এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু।
এছাড়া বক্তব্য দেন ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও জিন্দাবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. আলমাছ মিয়া, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান সাজু, কোষাধ্যক্ষ মহিদুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুনু মিয়া সাগর, সদস্য জালাল মিয়া, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি জয়নাল মিয়া, বন্দরবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাশেদ আহমদ ভূইয়া এবং জেলা কমিটির অন্যতম নেতা ও বাবনা আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ১১তম জেলা সম্মেলন সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্টুরেন্ট সেক্টরের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, হোটেল শ্রমিকরা প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অমানবিক পরিশ্রম করলেও শ্রমের ন্যায্য মূল্য পান না। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস, অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বই, সাপ্তাহিক ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি, অর্জিত ছুটি, উৎসব ছুটিসহ বিভিন্ন আইনগত অধিকার বাস্তবে অধিকাংশ হোটেল-রেস্টুরেন্টে কার্যকর করা হচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিদ্যমান মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হোটেল-রেস্টুরেন্ট সেক্টরের শ্রমিকদের ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং শ্রম আইন অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সভা থেকে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিক শ্রেণির সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে দেশের অন্যান্য সেক্টরের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
