সামছুল ইসলাম, মাধবকুণ্ড থেকে ফিরে: ঈদের টানা ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। ঈদের দিন থেকে সোমবার (১ জুন) পর্যন্ত পাঁচ দিনে এখানে অর্ধলক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইকোপার্কের ইজারাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী, বন বিভাগ ও পর্যটন পুলিশের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার কোনো বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই পর্যটকরা মাধবকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। হই-হুল্লোড় ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো এলাকা।
সোমবার সরেজমিনে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইকোপার্কের প্রধান ফটক থেকে জলপ্রপাত পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সড়কজুড়ে পর্যটকদের ভিড়। কেউ মূল জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ পরিকুণ্ড ঝরনা, বিশাল পাথর, পাহাড়ি সবুজ বনভূমি ও চা-বাগানের মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।
পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বেশিরভাগই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। চাকরিজীবীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হলেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। নারী ও শিশু পর্যটকের সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
মাধবকুণ্ডে দায়িত্বরত বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা সোহেল রানা এবং পর্যটন পুলিশের এএসআই ওবায়দুর রহমান জানান, ঈদের আগেই উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, পর্যটন পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সার্বক্ষণিক নজরদারি ও তৎপরতার ফলে কোনো ধরনের হয়রানি, দুর্ভোগ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, বন বিভাগ ও পর্যটন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে থানা পুলিশের নিয়মিত নজরদারির কারণে মাধবকুণ্ড এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতেও মাধবকুণ্ড দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবে।
