নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৪) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির সাত শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৯ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মেহেদীর বাবা জিয়াউদ্দিন বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় রামগঞ্জ থানায় এজাহার দাখিল করলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলাটি রুজু করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে জিয়াউদ্দিনের মোবাইল ফোনে কল করে জানানো হয়, তার ছেলে মেহেদী গুরুতর অসুস্থ এবং দ্রুত বিদ্যালয়ে আসতে হবে। সে সময় জিয়াউদ্দিন ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি স্ত্রী শারমিন আক্তার, ভাই, ভাগিনা ও মেয়েকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।
স্বজনরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, মেহেদীকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে তারা জানতে পারেন, মেহেদী মারা গেছে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মেহেদী ২০২৪ সালে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে ভর্তি হয়ে আবাসিক হলে থাকত। দীর্ঘদিন ধরে হলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা তাকে এবং অন্যান্য কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, কয়েকদিন আগে দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আইফোন চুরির ঘটনায় মেহেদীসহ কয়েকজনকে সন্দেহ করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি মেহেদী লিখিতভাবে অধ্যক্ষকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার কারণে তাকে পুনরায় মারধর ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে দাবি করেছেন বাদী।
বাদীর অভিযোগ, নির্যাতনের কারণেই মেহেদীর মৃত্যু হয়েছে। পরে কে বা কারা তার মরদেহ চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঘটনার পর চাটখিল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, “মেহেদীর বাবা জিয়াউদ্দিন বাদী হয়ে অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ সাত শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
