আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকের আলোচিত আছিয়া বেগম হত্যা মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি হাফিজুর রহমান (৩০)কে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব-৯ (সিলেট) ও র্যাব-৬ (যশোর)-এর যৌথ অভিযানে শুক্রবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোরের কোতোয়ালি মডেল থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমান সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং নূর মিয়ার ছেলে। তিনি আছিয়া বেগম হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত আছিয়া বেগম ছাতক উপজেলার বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ও আসামিরা পরস্পরের আত্মীয়। নিহতের মেয়ের স্বামী প্রবাসে থাকায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন আগে তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধের জেরে আছিয়া বেগমের মেয়েকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনার মীমাংসার জন্য গত ৭ জুন সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে আছিয়া বেগম ও তার স্বামী বাড়ি ফেরার পথে বনগাঁও এলাকায় নূর মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশের পাকা সড়কে পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, নূর মিয়ার নির্দেশে হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য আসামি রামদা, লোহার রড, শাবল, সুলফি, লাঠি, কাঠের বর্গা ও ইটের টুকরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আছিয়া বেগম ও তার স্বামীর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে আছিয়া বেগম মারা যান। তার স্বামী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ছাতক থানার মামলা নম্বর-১৮, তারিখ ১১ জুন ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৩৪২, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ১১৪, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। তদন্তের একপর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রধান আসামি হাফিজুর রহমান যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে র্যাব-৯ ও র্যাব-৬-এর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হাফিজুর রহমানকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আলোচিত এ হত্যা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
