জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের জৈন্তাপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার মামলার প্রধান আসামি জসিম মিয়া (পিতা: আব্দুল মালিক), উপজেলার নয়াখেল গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে র্যাব-৯-এর সহযোগিতায় তাকে আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে জৈন্তাপুর উপজেলার নয়াখেল এলাকায় সারিঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে জসিম মিয়া তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় কিশোরীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে তার পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়রা চিকিৎসার কথা বলে তাকে স্থানীয়দের কাছ থেকে নিয়ে যান। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।
ঘটনার দিনই বিকেলে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মামলার খবর পেয়ে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা জসিম মিয়া সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর শনিবার জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উৎসব কর্মকার জানান, রবিবার র্যাব-৯-এর সহযোগিতা চাওয়া হলে অভিযুক্তের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের কাছে পাঠানো হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার পর রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে র্যাব-৯-এর একটি দল সিলেট নগরীর চণ্ডীপুল এলাকা থেকে তাকে আটক করে। পরে তাকে জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক আসামিকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সোমবার পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
