শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
শ্রীমঙ্গলের জেডি রোড এলাকার একটি জলাশয়ে ভাসমান রহস্যময় বস্তাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট, ২০২৬) বিকেলে মানুষের লাশের আদলে বস্তাবন্দী করে পানিতে ফেলে রাখা অবয়বটি উদ্ধার করার পর জানা যায়, সেটির ভেতরে একটি মৃত কুকুর ছিল। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের ধারণা, ঘটনাটি কেবল সাধারণ অসচেতনতা নয়—বরং এলাকায় কৃত্রিম আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো পরিকল্পিত অপচেষ্টা বা সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত থাকতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলের জেডি রোড এলাকার একটি জলাশয়ে মুখ বাঁধা বস্তা ভাসতে দেখেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বস্তাটির আকৃতি ও বাঁধার ধরন দেখে মানুষের লাশের অবয়ব মনে হওয়ায় সবার মনে চরম সন্দেহ ও ভীতি জাগে। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদ পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে এসআই মহিবুর রহমান, এসআই হারুনুর রশীদ, এসআই দীপঙ্কর ও তামিম আহমেদসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় জলাশয় থেকে বস্তাটি উদ্ধার করে মুখ খোলা হলে দেখা যায়, ভেতরে একটি মৃত কুকুর বস্তাবন্দী অবস্থায় রয়েছে। এতে মানবদেহের অবশিষ্টাংশের গুঞ্জনের অবসান ঘটে এবং উপস্থিত জনতার মনে স্বস্তি ফিরে আসে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, “এরকম একটি খবরে পুরো এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাটি পানি থেকে তুলে আনি। পরীক্ষা করার পর ভেতরে মৃত কুকুর দেখতে পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, যা জানার পর স্থানীয় মানুষের ভয় কেটে যায় ও স্বস্তি ফিরে আসে।”
তবে ঘটনার কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। এলাকার একপক্ষের দাবি, উক্ত অঞ্চলটি কোনো বন্যা কবলিত এলাকা নয় যে দূর থেকে স্বাভাবিক স্রোতে ভেসে আসবে। তাই সাধারণ একটি মৃত কুকুর ফেলার জন্য দড়ি দিয়ে নিখুঁতভাবে পেঁচিয়ে মানুষের লাশের আকৃতি দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “শুধু মৃত পশু ফেলার জন্য কেউ এভাবে নিখুঁতভাবে বস্তা পেঁচিয়ে পানিতে ফেলার কথা নয়। এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, মানুষের মনে অযথা ভয় ঢোকানো কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরাতে কোনো চক্রান্তকারী চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করে থাকতে পারে।”
তবে অন্য একটি ভিন্ন কোণ থেকেও বিষয়টিকে দেখছেন অনেকে। তাদের মতে, মৃত কুকুরটি হয়তো কারো অত্যন্ত প্রিয় পোষা প্রাণী ছিল। পচে যাওয়া দেহ প্রকাশ্যে ফেলা এড়াতে বা লোকলজ্জার ভয়ে মালিক হয়তো গোপনে সেটিকে বস্তাবন্দী করে জলাশয়ে ফেলে দিয়ে গেছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবিদরা বলছেন, ঘটনাটি চক্রান্ত কিংবা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা যা-ই হোক না কেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। জনবহুল এলাকার জলাশয়ে বস্তাবন্দী মৃত পশু ফেলার কারণে একদিকে যেমন পানি দূষিত হয়ে তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে জনমনে অহেতুক ভীতি সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে ভবিষ্যতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
