নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে “বালতিভর্তি কনডম” পাওয়ার অভিযোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও, ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে—প্রাথমিকভাবে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অমিল রয়েছে এবং বিষয়টি অতিরঞ্জিত হতে পারে।
কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট কক্ষের বাথরুম সংলগ্ন স্থানে কিছু ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত যৌন সুরক্ষাসামগ্রী পাওয়া যায় বলে দাবি ওঠে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে “বালতিভর্তি বিপুল পরিমাণ” উপকরণ পাওয়া গেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে হোস্টেল সুপার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক শিক্ষককে হোস্টেল সংক্রান্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে—এটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সাময়িক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, “ঘটনার সঠিক সত্যতা উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি।”
জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সামাজিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হবে। কোনো পক্ষকে অযথা দোষারোপ না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনেক সময় যাচাইহীন থাকে। এতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পরই প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
