তদন্ত কর্মকর্তার সামনেই আসামিপক্ষের উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১১ মাস ধরে ঝুলে থাকা শহিদ ইমাম রইস হত্যা মামলায় অবশেষে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা গেছে। মামলাটি বর্তমানে Police Bureau of Investigation (পিবিআই)–এর তদন্তাধীন রয়েছে। আজ প্রথমবারের মতো ভিকটিমের পরিবার ও স্বজনদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনা, আসামিপক্ষের মারমুখী আচরণের অভিযোগ
সরেজমিন তদন্ত চলাকালে একপর্যায়ে আসামিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত ও মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তদন্ত কর্মকর্তার সামনেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, এ ধরনের আচরণ মামলার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার প্রমাণ বহন করে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে।
“পূর্বের তদন্তে নিরপেক্ষতা ছিল না” — পরিবারের অভিযোগ
ভিকটিমের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ডিবি তদন্তে নিরপেক্ষতার ছাপ রাখতে পারেনি। তারা জানান, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন অসঙ্গতি, বিলম্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষার অভিযোগ ছিল। এ কারণেই তারা দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
পরিবারের এক সদস্য বলেন,
“আমরা ন্যায়বিচার চাই। এতদিন তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় আমরা হতাশ ছিলাম। পিবিআই নিরপেক্ষভাবে কাজ করলে সত্য বেরিয়ে আসবেই।”
পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিবিআই ঘটনাস্থল পুনরায় পরিদর্শন, আলামত যাচাই, সাক্ষ্য সংগ্রহ এবং পূর্ববর্তী তদন্ত নথি পর্যালোচনা করছে। ঘটনার বিভিন্ন দিক নতুন করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান,
“মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হবে না। প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
এলাকায় চাঞ্চল্য, বাড়ছে প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। তবে পিবিআইয়ের সক্রিয় সরেজমিন তদন্তে এখন নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ তদন্ত মামলাটিকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
উপসংহার:
শহিদ ইমাম রইস হত্যা মামলায় ১১ মাস পর পিবিআইয়ের সরেজমিন তদন্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এখন দেখার বিষয়, নতুন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং প্রকৃত অপরাধীরা কত দ্রুত আইনের আওতায় আসে।
