বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকা, ১৩ মে ২০২৬ : বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘স্কুল অব টিএফজিবিভি: প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা—প্রতিরোধ, প্রশমন ও করণীয় এবং ডিজিটাল উন্নয়ন প্রচারণা’ শীর্ষক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২ ও ১৩ মে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৯০ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন।
বিএনএনআরসি ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স অ্যান্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে অর্থায়ন করছে সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ।
অনুষ্ঠানে নাগরিকতা: সিইএফ কর্মসূচির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিম লিডার ড. আদি ওয়াকার, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট মো. নুরুল ইসলাম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড আউটরিচ এক্সপার্ট জারিন তাসনিম এবং জেন্ডার অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি এক্সপার্ট ফরিদুল হক।
জারিন তাসনিম কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে নাগরিক পরিসর সংরক্ষণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
টিম লিডার ড. আদি ওয়াকার বলেন, বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের একটি বড় অংশ অনলাইনে কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হন। ডিজিটাল সহিংসতা মোকাবিলায় তিনি অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সামাজিক মনমানসিকতার পরিবর্তন এবং সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কোর্স কো-অর্ডিনেটর ও ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট রেহান উদ্দিন আহমেদ রাজু অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও পটভূমি তুলে ধরে বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি, প্রভাব ও প্রতিরোধ কৌশল সম্পর্কে বহুপক্ষীয় অংশীজনদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
প্রশিক্ষণে ‘জেন্ডারের মৌলিক ধারণা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে জেন্ডারের প্রভাব’ বিষয়ে আলোচনা করেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ সেলিনা কেয়া। ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল উন্নয়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’ বিষয়ে আলোচনা করেন বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান।
‘টিএফজিবিভি: সংজ্ঞা, ধরন, নেতিবাচক প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক অধিবেশন পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও প্রশিক্ষক শাহনাজ মুন্নী। ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি এবং ফ্যাক্ট-চেকিং’ বিষয়ে আলোচনা করেন বিএনএনআরসির প্রকল্প সমন্বয়কারী হীরেন পণ্ডিত।
আইনগত বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলী। তিনি সাইবার অপরাধের বিচারে ডিজিটাল ফরেনসিক প্রমাণের গুরুত্ব এবং ভুক্তভোগীকে দোষারোপের সামাজিক প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া অ্যাডভোকেট জেবা মোবাশ্বিরা সাইবার অপরাধের বিভিন্ন ধারা, শাস্তি ও আইনি প্রতিকার সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু আইন নয়, সচেতনতাও সাইবার সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
আইসিটি বিভাগের উপসচিব ফাতেমা তুল জান্নাত বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি ‘নেটিকেট’ বা ডিজিটাল শিষ্টাচার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ এলাকায় টিএফজিবিভি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে কাজে লাগাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
বিএনএনআরসি মনে করে, প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি জ্ঞানের প্রসার এবং অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
