এম এম সামছুল ইসলাম: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব স্থানে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। এছাড়া জেলায় প্রায় দুই শতাধিক রিসোর্ট রয়েছে, যার বেশিরভাগই শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত। এসব রিসোর্ট ঘিরেও পর্যটকদের আগ্রহ কম নয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার প্রায় প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষণীয়। কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে, আবার কেউ দলবেঁধে মোটরসাইকেলে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও বড়লেখার পর্যটন স্পটগুলোতে বেশি ভিড় দেখা গেছে। তবে শ্রীমঙ্গল শহরে তীব্র যানজটের কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে পর্যটকদের।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, জেলায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুম ভালো না গেলে এসব পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারের ঈদে পর্যটকের উপস্থিতি সন্তোষজনক হলেও বড় রিসোর্টগুলোর শতভাগ বুকিং হয়নি। ছোট রিসোর্টগুলোতে প্রায় পূর্ণ বুকিং থাকলেও বড়গুলোর গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং হয়েছে।
জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে— লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, হামহাম জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর, মনু ব্যারেজ, চা বাগানসমূহ, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি, কমলা রাণীর দিঘি, পাথারিয়া হিলস, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হজরত শাহ মোস্তফা (রহ.)-এর মাজার শরীফসহ নানা দর্শনীয় স্থান।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, “রমজানের ২০ তারিখ পর্যন্ত বুকিং কম থাকলেও শেষের দিকে তা বেড়েছে। তবে বড় রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং পায়নি।”
টুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বহুস্তরীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যটকেরা জানান, ঈদের সময় তারা একাধিক পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়ান। বিশেষ করে চা বাগান ও রিসোর্টগুলোতে ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ বেশি। অনেক রিসোর্টে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে প্রবেশ করে ঘুরে দেখা যায়। তবে সরকারি উদ্যোগে আরও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে পর্যটন খাত আরও বিকশিত হবে বলে মত দেন তারা।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা এক পর্যটক আছলাম উদ্দিন বলেন, “দুই বছর পর আবার মৌলভীবাজারে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। তবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন।”
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঈদের দিন থেকেই জেলায় পর্যটকদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
