রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বালুমহাল বড়গাং নদীতে ইজারা আইন লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পাড়, ফসলি জমি, বসতবাড়ি, কবরস্থান ও শ্মশান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
জানা যায়, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বড়গাং নদী ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করছে। বর্তমানে ‘সানি-সোহা এন্টারপ্রাইজ’-এর প্রোপাইটর চন্দন তালুকদার ইজারার দায়িত্বে রয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি বালুখেকু চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইজারা আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে জাঙ্গালঘাট, খেয়াঘাট, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব, গোয়াবাড়ী, রূপচেং (পাতলাখাতা বাড়ি) ও গরুরঘাট এলাকায় দেখা যায়, প্রতিদিন শত শত নৌকার মাধ্যমে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি, বসতবাড়ি, কবরস্থান, শ্মশান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
ইজারা আইন অনুযায়ী নদীর উভয় পাড় থেকে ন্যূনতম ১৫ মিটার এলাকা অক্ষত রেখে নদীর মাঝখান থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের অনুমতি থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১৪৩২ সনের বৈশাখ মাসে ইজারা গ্রহণের কয়েক মাস পর থেকেই ইজারাদার পক্ষ প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নদীর পাড় থেকেও বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেয়। ফলে বৈধ চালানের আড়ালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
এরই মধ্যে গোয়াবাড়ী চা-শ্রমিকদের শ্মশানঘাট, রূপচেং এলাকার কবরস্থান, ওয়াপদা বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি ও বসতবাড়ির কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা কয়েক দফা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেব রমজান মাসে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি নৌকা বালু উত্তোলনে চক্রটি থেকে ৪০০ টাকা নিয়ে ইজারাদার নিজে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। গত রমজানে উপজেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সিদ্দিক মিয়া অনিয়মের বিষয়টি স্বীকারও করেন এবং ভবিষ্যতে তা বন্ধের আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সেই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী বদরুল আলম, হোসাইন আহমদ, কামরুল ইসলাম ও ফখরুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, “বর্তমানে যেভাবে নদীর পাড় কাটা হচ্ছে, তাতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আগামী বন্যায় বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কবরস্থান, শ্মশান ও বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হতে পারে।” তারা দ্রুত ইজারা বাতিলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ইজারাদার চন্দন তালুকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় প্রতিনিধি সিদ্দিক মিয়া বলেন, নদীর পাড় কাটার ঘটনা ঘটছে, তবে এতে তাদের প্রতিষ্ঠান জড়িত নয়। তবে বৈধ চালানের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং ইজারাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
