“১১,৮২০ পশু প্রস্তুত, চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত ২৭৭”
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজহা ২০২৬ উপলক্ষে আগামী ২৫ মে সোমবার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুতি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ১১ হাজার ৮২০টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ষাঁড় ৬ হাজার ৮৪৯টি, বলদ ৫২১টি, গাভী ৯৭৮টি, ছাগল ২ হাজার ৯১৪টি, মহিষ ১২৩টি, ভেড়া ৪০৩টি এবং অন্যান্য ২৬টি পশু।
উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দু ভূষণ দেব জানান, এবছর শ্রীমঙ্গলে কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৪৩টি। সেই হিসেবে উপজেলায় ২৭৭টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় দপ্তরের কার্যক্রমে কিছুটা প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুল হক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কার্যক্রম তদারকি করছেন।
অন্যদিকে শ্রীমঙ্গল প্রাণিসম্পদ অফিসের আরেকজন নারী কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে থাকায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে জনবল সংকট আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুল হক বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি বিষয়ে সচেতন রয়েছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে পশুর কোনো ঘাটতি নেই; বরং আমাদের টার্গেটের চেয়েও ২৭৭টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। আমরা আশা করছি, স্থানীয়ভাবেই কোরবানির পশুর চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।
ঈদকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মেডিকেল টিম গঠন এবং কেমিক্যালমুক্ত পশু নিশ্চিতকরণে প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর—তা নিয়েও স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠছে।
সচেতন মহলের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর বাজার শুধু বাণিজ্য নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার সঙ্গেও জড়িত। তাই প্রশাসনিক শূন্যতা দ্রুত পূরণ ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি জোরদার করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, সীমিত জনবল নিয়েও ঈদকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
