এম সামছুল ইসলাম, জুড়ী: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ী গ্রামে প্রথমবারের মতো মাচা পদ্ধতিতে অমৌসুমে তরমুজ চাষ করে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই কৃষক—সিরাজুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম। প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে উন্নত প্রযুক্তিতে তরমুজ চাষ করে তারা স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন।
দুই কৃষকের জমিতে চাষ করা হয়েছে বীজ পাতা কোম্পানির ‘সূর্যডিম’ এবং লালতীর কোম্পানির ‘ল্যানফে’ জাতের তরমুজ। আকর্ষণীয় রঙ, উন্নত মান ও সুস্বাদের কারণে জাত দুটির বাজারে চাহিদা রয়েছে। ফলে উৎপাদিত তরমুজ সহজেই বাজারজাত করা যাচ্ছে এবং ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।
কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে তিনি প্রায় ২০ শতক জমিতে অমৌসুমে তরমুজ চাষ করেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও ফলন আশাব্যঞ্জক হয়েছে।
তিনি বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতো। এবার সফলতা পাওয়ায় আগামীতে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।”
অপর কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “নতুন পদ্ধতিতে চাষ শুরু করার সময় কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে কাজ করায় ভালো ফলন পেয়েছি। আশা করছি, এ চাষ থেকে লাভবান হতে পারব।”
জুড়ী উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনি সিং বলেন, “মাচা পদ্ধতিতে অমৌসুমে তরমুজ চাষ এ এলাকায় একটি নতুন উদ্যোগ। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে এ সফলতা এসেছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেখে অন্যান্য কৃষকরাও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে উৎসাহিত হবেন।”
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, “অমৌসুমে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কম জমিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো ফলন ও অধিক লাভ করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ভাবনী কৃষি কার্যক্রমে কৃষকদের পাশে থাকবে কৃষি বিভাগ।”
