শেষ বিদায়ের সাজ’ কর্মসূচি চালু করল আল এহসান নামের এই প্রবাসীদের সংগঠন
আফজাল হোসেন রুমেল, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: জীবনের শেষ প্রান্তে প্রত্যেক মানুষকেই পাড়ি জমাতে হয় পরপারের পথে। সেই শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিকে সহজ ও মর্যাদাপূর্ণ করতে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে ‘আল-ইহসান সমাজকল্যাণ সংস্থা কাতার প্রবাসী দক্ষিণভাগ’নামের একটি সংগঠন। উপজেলার যেকোনো মুসলিম মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সংস্থাটি চালু করেছে ‘শেষ বিদায়ের সাজ’ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দক্ষিণভাগ মোহাম্মদীয়া দারুল হাদিস (টাইটেল) মাদ্রাসায় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পাথারিয়া গাংকুল মনসুরিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক জামাল উদ্দিন। শিক্ষক বদরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন আল-ইহসান সমাজকল্যাণ সংস্থা কাতার প্রবাসী দক্ষিণভাগের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুস সাত্তার, দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাওলানা লুৎফুর রহমান, দক্ষিণভাগ মোহাম্মদীয়া দারুল হাদিস (টাইটেল) মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা কাওছার আহমদ, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, সংস্থাটির উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ুম ও আজিজুর রহমান লাল।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন উত্তর দোহালিয়া দারুল হুদা নূরানী মাদ্রাসার মোহতামিম হাফিজ মাওলানা খলিলুর রহমান সাহীন, পশ্চিম গাংকুল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা শাহ আলম, সমাজসেবক আব্দুল জলিল খলকু, রফিক উদ্দিন, অহিদ আহমদ, ফয়সল আহমদ প্রমুখ।
আয়োজকেরা জানান, কোনো মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে গিয়ে স্বজনদের অনেক সময় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্বজনদের এই দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করার লক্ষ্যেই ‘শেষ বিদায়ের সাজ’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় কোনো মুসলিম মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের প্রয়োজন হলে দক্ষিণভাগ মোহাম্মদীয়া দারুল হাদিস (টাইটেল) মাদ্রাসায় যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করা যাবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে বড়লেখা উপজেলার মুসলিম মৃত ব্যক্তিদের দাফন-কাফনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ সহজতর হবে। একই সঙ্গে উদ্যোগটি সামাজিক সহযোগিতা ও মানবিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।
