নিউইয়র্ক থেকে: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেওয়া হবে না এবং নতুন করে কাউকে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতেও দেওয়া হবে না। মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথ ও সংসদে জামায়াতে ইসলামী ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২০ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ৮টায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি হলে কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন (কোবা) আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ইয়র্ক বাংলার সম্পাদক রশীদ আহমদের সঞ্চালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন সংগীতশিল্পী সালাহ উদ্দিন রাসেল।
সভায় নিউইয়র্কে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, টাইম টিভির সিইও ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক পরিচয়ের সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সাপ্তাহিক আজকালের বিশেষ প্রতিনিধি ও নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন, হককথার সম্পাদক এবিএম সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আমার সিলেটের সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী দীপু, দৈনিক সংগ্রামের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি এইচ এম আখতার হোসাইন ও ফটোসাংবাদিক জেমসসহ আরও অনেকে।
মতবিনিময় সভায় এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জুলাই সনদ ও গণভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ডের মিল নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর দাবি, এ কারণে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ জনদুর্ভোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথ ও সংসদে জামায়াতে ইসলামী ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে আলোচনা হওয়া উচিত। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশিদের পুশব্যাকের চেষ্টা এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও তিনি কথা বলেন। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে অসম্মানজনক কোনো সফর করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা, গণভোট ও সংস্কারসহ বিপ্লব-পরবর্তী বিভিন্ন প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে না। তাঁর দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দলীয়করণের ক্ষেত্রে ‘নজিরবিহীন ইতিহাস’ সৃষ্টি করছে।
শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ দেশের সব দল একমত। এ বিষয়ে কোনো বিভেদ বা বিভক্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাম আক্রান্ত হয়ে বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও গ্যাস সংকটসহ বড় ধরনের জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো নিয়ে আন্দোলন হতে পারে। তবে তাঁরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চান এবং সরকারকে অযথা বিব্রত করতে চান না।
তিনি জানান, আগামী দিনে বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে লংমার্চ এবং অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা বাংলাদেশের রাজনীতি, জুলাই আন্দোলন, সংস্কার, নির্বাচন, বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান, দেশের ভবিষ্যৎ এবং প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাঁর দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। দেশ গঠনে দল-মত ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা ও প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষ হয়।
