নড়াইল প্রতিনিধি: কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগ পাওয়া গেলে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদক কারবারে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে কিংবা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নড়াইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, দস্যুতা ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।
তিনি বলেন, সমাজে মব সংস্কৃতি রোধ এবং অপরাধ প্রতিরোধে টহল পুলিশিং ও বিট পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে। যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়ার পর সমন্বিতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নড়াইলে পাঁচ বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ১১ কর্মদিবসের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, মামলায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের দ্রুত ও সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা থাকবে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ডিআইজি আরও জানান, চলতি বছর খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে ৫০ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হবে।
মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বক্তব্য দেন নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, আব্দুস সাত্তার, আজিজুল ইসলাম, খাইরুল আরেফিন রানাসহ অনেকে।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদারের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার রবিন হালদার, মোহাম্মদ মহসিনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
