Close Menu

    Subscribe to Updates

    Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.

    Subscribe on YouTube
    What's Hot

    ‘মা জানে বাপ, দিলে জানে পাপ’: মুখোশের অন্তরালে ডিজিটাল ফেরেশতাদের আত্মপ্রবঞ্চনা

    October 25, 2026

    শ্রীমঙ্গলে বিজিবি ও এসআরবির যৌথ অভিযান: ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় সিগারেট জব্দ

    October 24, 2026

    ভারতের জম্মু-কাশ্মীর কারাগারে সাজা শেষে দেশে ফিরলেন ৬ বাংলাদেশি যুবক

    October 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    Sunday, October 25
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest Vimeo
    Amar Sylhet 24
    • প্রধান পাতা
    • সর্বশেষ
    • বাংলাদেশ
    • রাজনীতি
    • বাণিজ্য
    • বিনোদন
    • খেলা
    • ভিডিও
    Subscribe
    Amar Sylhet 24
    Home » ‘মা জানে বাপ, দিলে জানে পাপ’: মুখোশের অন্তরালে ডিজিটাল ফেরেশতাদের আত্মপ্রবঞ্চনা
    বাংলাদেশ

    ‘মা জানে বাপ, দিলে জানে পাপ’: মুখোশের অন্তরালে ডিজিটাল ফেরেশতাদের আত্মপ্রবঞ্চনা

    amarsylhetBy amarsylhetOctober 25, 2026No Comments9 Mins Read
    Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest Email

    মানুষের চরিত্রের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো—সে অন্যের চোখে ভালো মানুষ হয়ে ওঠার জন্য যতটা সচেতন, নিজের কাছে সত্যিকারের ভালো মানুষ হয়ে ওঠার জন্য সব সময় ততটা সচেতন নয়। বাইরে সততা, মানবতা, ধর্মপরায়ণতা ও জনসেবার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতে মানুষ কখনো কখনো যতটা পরিশ্রম করে, অন্যের দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করে কাউকে ছোট করার বা কোন ব্যক্তিকে প্রশ্নের সম্মুখীন করার অথবা সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার যে সাধনা করে তা নিজের ভেতরের অসংগতি দূর করতে তার সামান্য অংশও ব্যয় করে না। এখানেই শুরু হয় আত্মপ্রবঞ্চনা; এখানেই তৈরি হয় মুখোশের আড়ালে আরেকটি মানুষ। তারা-ই আবার কখনো কখনো শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা চালায়।

    বাংলা লোকজ প্রজ্ঞার একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ—‘মা জানে বাপ, দিলে জানে পাপ’। প্রবাদটির প্রথম অংশের সামাজিক তাৎপর্য নিয়ে ভিন্ন আলোচনা থাকতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় অংশে রয়েছে মানবচরিত্রের এক গভীর সত্য। মানুষের প্রকাশ্য পরিচয়, প্রচারিত আদর্শ কিংবা আত্মপ্রশংসার আড়ালে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ঢাকা পড়ে যেতে পারে; কিন্তু নিজের কাজের নৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে সে কতটা সৎ, সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। মানুষ অন্যকে বিভ্রান্ত করতে পারে, নিজের ভুলকে যুক্তি দিয়ে আড়াল করতে পারে, এমনকি নিজের কাছেও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু কোনো অন্যায়কে বারবার সঠিক বলে দাবি করলেই তা ন্যায় হয়ে যায় না।

    এই বাস্তবতা আজ আরও দৃশ্যমান। কারণ, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন মানুষের পরিচিতি শুধু তার কাজ দিয়ে তৈরি হয় না; তৈরি হয় তার পোস্ট, ছবি, বক্তব্য, অনুসারীর সংখ্যা এবং জনসমক্ষে নিজেকে উপস্থাপনের কৌশল দিয়েও। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আমরা কি সত্যিকারের ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি, নাকি ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছি?

    ডিজিটাল ফেরেশতা: পর্দায় পুণ্য, বাস্তবে প্রশ্ন

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশ, জনসচেতনতা, মানবসেবা ও সামাজিক উদ্যোগের অসাধারণ সুযোগ তৈরি করেছে। অসংখ্য মানুষ এই মাধ্যম ব্যবহার করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন এবং জনকল্যাণে ভূমিকা রাখছেন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভালো কাজ প্রকাশ করাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভণ্ডামি বলা যায় না।

    সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ভালো কাজের প্রচার ভালো থাকার বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়; যখন মানবতার বক্তব্যের আড়ালে ব্যক্তিস্বার্থ লুকিয়ে থাকে; যখন নীতিকথা বলা মানুষ নিজের আচরণে সেই নীতির সামান্য প্রতিফলন ঘটাতেও অনাগ্রহী থাকেন।

    এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সততা, ন্যায়বিচার, মানবতা ও পরোপকারের বড় বড় কথা বলেন। তাঁদের পোস্টে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থাকে, অসহায় মানুষের জন্য আবেগ থাকে, নৈতিকতার পক্ষে জোরালো অবস্থান থাকে। কিন্তু বাস্তব জীবনে তাঁদের আচরণ যদি হয় স্বার্থকেন্দ্রিক, প্রতিশ্রুতি যদি হয় অবিশ্বস্ত, লেনদেনে যদি থাকে অসততা কিংবা অন্যের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে যদি দেখা যায় সুবিধাবাদী নীরবতা—তাহলে সেই ডিজিটাল পরিচয়ের সঙ্গে বাস্তব চরিত্রের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

    এই ব্যবধানই ‘ডিজিটাল ফেরেশতা’ ধারণার মূল তাৎপর্য। এখানে ফেরেশতা বলতে প্রকৃত নিষ্পাপ সত্তা বোঝানো হচ্ছে না; বোঝানো হচ্ছে এমন এক কৃত্রিম জনপরিচয়, যেখানে মানুষ নিজেকে প্রায় নিখুঁত হিসেবে তুলে ধরে, অথচ নিজের ত্রুটি ও দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে চায় না।

    ফেসবুকে হাজার হাজার অনুসারী থাকা চরিত্রের সততার সনদ নয়। অসংখ্য প্রশংসাসূচক মন্তব্যও নৈতিকতার প্রমাণ নয়। জনপ্রিয়তা মানুষের পরিচিতি বাড়াতে পারে, কিন্তু তার বিবেকের মান নির্ধারণ করতে পারে না।

    মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার নিজের সম্পর্কে বলা কথায় যতটা নয়, তার অনুপস্থিতিতে সে অন্যের সঙ্গে কেমন আচরণ করে—সেখানেও ততটাই প্রকাশ পায়।

    ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে অধর্ম: পোশাক নয়, প্রশ্ন আচরণে

    ধর্ম মানুষের আত্মশুদ্ধি, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় অনুশীলনের বাহ্যিক চিহ্নও অনেকের কাছে বিশ্বাস ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বাহ্যিক পরিচয় আর অন্তরের নৈতিক অবস্থান এক বিষয় নয়। পোশাক, উপাসনার দৃশ্যমান চিহ্ন কিংবা ধর্মীয় বক্তব্য দিয়ে কারও অন্তরের বিচার করা যায় না; একইভাবে এসবের উপস্থিতিকে অসততার দায় থেকে মুক্তির সনদ হিসেবেও গ্রহণ করা যায় না।

    সমস্যা তখনই, যখন কেউ ধর্মীয় পরিচয়কে আত্মশুদ্ধির মাধ্যম না বানিয়ে সামাজিক প্রভাব, ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা নিজের কাজের সমালোচনা ঠেকানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।

    মুখে ন্যায়বিচারের কথা বলে অন্যের অধিকার হরণ করা, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রচার করে ব্যবসায় প্রতারণা করা, মানুষের কল্যাণের কথা বলে দুর্বল মানুষের প্রাপ্য আত্মসাৎ করা কিংবা ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজের অনিয়মকে আড়াল করার চেষ্টা—এসব আচরণ ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    এখানে প্রশ্নটি কারও পোশাক, পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে নয়। প্রশ্নটি হলো—যে নৈতিকতার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তব আচরণে তার প্রতিফলন কতটা রয়েছে?

    ধর্মীয় বক্তব্যের উচ্চতা দিয়ে নৈতিক বিচ্যুতির গভীরতা মাপা যায় না। বরং যে ব্যক্তি অন্যকে নৈতিকতার শিক্ষা দেন, তাঁর নিজের আচরণের সামঞ্জস্যের প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, অন্যকে উপদেশ দেওয়া সহজ; নিজের স্বার্থ, অহংকার ও ভুলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন।

    তবে এটিও মনে রাখা প্রয়োজন, মানুষের প্রকাশ্য ভালো কাজের পেছনে ব্যক্তিগত দুর্বলতা থাকতে পারে বলে তার সব ভালো কাজকে মিথ্যা বলা যায় না। ন্যায়সংগত সমালোচনা করতে হলে নির্দিষ্ট আচরণ, প্রমাণ ও বাস্তবতার ওপর নির্ভর করতে হবে—অনুমান কিংবা বিদ্বেষের ওপর নয়।

    রাজনৈতিক দ্বিচারিতা: জনসেবার ভাষণ, স্বার্থের হিসাব

    রাজনীতির অন্যতম মৌলিক প্রতিশ্রুতি হলো জনগণের সেবা, অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু যখন জনসেবার ভাষা ব্যক্তিস্বার্থের আবরণ হয়ে ওঠে, তখন রাজনীতি মানুষের আস্থার জায়গা থেকে সরে গিয়ে আত্মপ্রচারের মঞ্চে পরিণত হয়।

    একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি দুর্নীতিমুক্ত সমাজের অঙ্গীকার করতে পারেন, শোষিত মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেন, সুশাসন ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন। এসব বক্তব্য তখনই অর্থবহ, যখন তাঁর নিজের কর্মকাণ্ডেও সেই নীতির প্রতিফলন থাকে।

    কিন্তু জনসমক্ষে ন্যায়বিচারের কথা বলে ব্যক্তিগত স্বার্থে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া, স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে নিজের ক্ষেত্রে পক্ষপাতকে বৈধতা দেওয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব থেকে নিজের ঘনিষ্ঠজনের অনিয়মে নীরব থাকা কিংবা জনগণের সম্পদকে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা—এসবই রাজনৈতিক দ্বিচারিতার উদাহরণ হতে পারে।

    রাজনৈতিক আত্মপ্রবঞ্চনার সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ হলো, নিজের স্বার্থকে জনস্বার্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা। তখন ব্যক্তি শুধু জনগণকে বোঝাতে চান না যে তিনি সঠিক; তিনি নিজেকেও বোঝাতে শুরু করেন যে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তই সঠিক, তাঁর পক্ষের মানুষের অন্যায় পরিস্থিতির কারণে গ্রহণযোগ্য, আর বিরোধী পক্ষের একই কাজ ক্ষমার অযোগ্য।

    এভাবেই নীতির মানদণ্ড ব্যক্তি ও পক্ষভেদে বদলে যায়। নিজের জন্য এক নিয়ম, প্রতিপক্ষের জন্য আরেক নিয়ম—এই মানসিকতা ন্যায়বিচারের ভিত্তিকেই দুর্বল করে।

    রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে অপরাধী প্রমাণ করে না, আবার কাউকে জবাবদিহির ঊর্ধ্বেও তুলে দেয় না। অভিযোগের বিচার হবে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে; কিন্তু নৈতিকতার দাবি করলে সেই নৈতিকতার মানদণ্ড নিজের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করার সাহস থাকতে হবে।

    যে ব্যক্তি শুধু প্রতিপক্ষের অন্যায় দেখতে পান, কিন্তু নিজের পক্ষের অন্যায় দেখেও চোখ বন্ধ রাখেন, তিনি ন্যায়বিচারের চেয়ে পক্ষের প্রতি আনুগত্যকেই বড় করে তুলছেন।

    আত্মপ্রবঞ্চনা: মানুষ কীভাবে নিজের কাছেই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে

    অন্যকে প্রতারণা করা এবং নিজেকে প্রতারণা করা এক বিষয় নয়। অন্যকে প্রতারণা করতে মানুষ তথ্য গোপন করতে পারে; কিন্তু আত্মপ্রবঞ্চনার ক্ষেত্রে সে নিজের ভুলের ব্যাখ্যাই এমনভাবে সাজায়, যাতে নিজের চোখে নিজেকে অপরাধী মনে না হয়।

    কেউ অন্যের সামান্য ভুলের কঠোর সমালোচনা করেন, অথচ নিজের বড় ভুলকে পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে বৈধতা দেন। কেউ অন্যের স্বার্থপরতাকে নিন্দা করেন, কিন্তু নিজের স্বার্থের প্রশ্নে নীতিকে বিসর্জন দেন। কেউ অন্যের অসততায় ক্ষুব্ধ হন, অথচ নিজের সুবিধার জন্য সামান্য অসততাকে ‘বাস্তবতা’ বলে মেনে নেন।

    এই মানসিকতার একটি পরিচিত কৌশল হলো—নিজের ভুলের জন্য অজুহাত খোঁজা, অন্যের ভুলের জন্য চরিত্রের দোষ খোঁজা।

    নিজের অন্যায়কে ছোট করে দেখা এবং অন্যের অন্যায়কে বড় করে দেখার এই প্রবণতা মানুষকে ধীরে ধীরে আত্মসমালোচনা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। একসময় সে নিজের আচরণের অসংগতি আর দেখতে পায় না; বরং নিজের পক্ষে যুক্তি তৈরি করাকেই সত্য প্রতিষ্ঠা বলে মনে করে।

    এ কারণেই শুধু অন্যের মুখোশ শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। নিজের মুখোশটি চিনতে পারাও সমান জরুরি।

    কারণ, আত্মসমালোচনা ছাড়া নৈতিকতার দাবি অনেক সময় আত্মপ্রশংসায় পরিণত হয়। নিজের ভুল স্বীকার করার সাহস না থাকলে অন্যকে সংশোধনের আহ্বানও বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।

    বিবেকের আদালত: সব অপরাধবোধ দৃশ্যমান নয়

    প্রচলিত ধারণা হলো, মানুষ অন্যায় করলে তার বিবেক তাকে দংশন করে। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এত সরল নয়। কেউ অন্যায় করার পর অনুতপ্ত হন, কেউ নিজের ভুল স্বীকার করেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন নিজের আচরণকে যুক্তি দিয়ে সমর্থন করতে করতে অপরাধবোধকেই দুর্বল করে ফেলেন।

    তাই শুধু কারও মুখের কথা, অনুশোচনার প্রকাশ কিংবা আত্মবিশ্বাস দেখে তার নৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। একইভাবে অপরাধবোধ না থাকলেই কোনো কাজ ন্যায়সংগত হয়ে যায় না।

    বিবেকের আদালত বলতে এখানে সেই নৈতিক প্রশ্নগুলোকেই বোঝানো হচ্ছে, যেগুলোর মুখোমুখি হওয়া প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজন: আমি যা বলছি, তা কি নিজে পালন করছি? অন্যের কাছে যে সততা দাবি করছি, নিজের ক্ষেত্রেও কি সেই মানদণ্ড মানছি? আমার সিদ্ধান্তে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না? আমার প্রকাশ্য পরিচয় ও বাস্তব আচরণের মধ্যে অসংগতি থাকলে তা স্বীকার করার সাহস কি আমার আছে?

    এসব প্রশ্নের উত্তর সব সময় আরামদায়ক হয় না। কিন্তু আত্মশুদ্ধির শুরুই হয় অস্বস্তিকর সত্যকে স্বীকার করার মধ্য দিয়ে।

    সামাজিক স্বীকৃতি সাময়িক হতে পারে, জনপ্রিয়তা ওঠানামা করতে পারে, ক্ষমতা ও প্রভাব একসময় হারিয়েও যেতে পারে। তখন বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে মানুষের প্রকৃত কাজ, তার আচরণের পরিণতি এবং অন্যের অধিকার সম্পর্কে তার অবস্থানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    উপসংহার: ফেরেশতা সাজার চেয়ে মানুষ হওয়া কঠিন

    ‘মা জানে বাপ, দিলে জানে পাপ’—এই লোকপ্রবাদ আমাদের সামনে আত্মসমালোচনার একটি সহজ অথচ গভীর প্রশ্ন তুলে ধরে। আমরা কি সত্যকে ধারণ করছি, নাকি সত্যের বাহক হিসেবে পরিচিত হতে চাইছি? আমরা কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছি, নাকি কেবল অন্যের অন্যায়কে সামনে এনে নিজের অবস্থানকে নিষ্কলঙ্ক প্রমাণের চেষ্টা করছি?

    ডিজিটাল যুগে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সহজ। কয়েকটি আবেগঘন বক্তব্য, কিছু নীতিকথা, মানবসেবার কয়েকটি ছবি কিংবা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে মানুষের সামনে একটি গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু সেই ভাবমূর্তির সঙ্গে বাস্তব আচরণের মিল না থাকলে বাহ্যিক চাকচিক্য নৈতিকতার বিকল্প হতে পারে না।

    এখানে সবচেয়ে বড় বিপদ অন্যের চোখে ধরা পড়ার ভয় নয়; বরং নিজের ভুলকে ভুল বলে স্বীকার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। যে মানুষ নিজের অন্যায়কে অন্যায় বলতে পারেন না, তিনি আত্মশুদ্ধির পথও খুঁজে পান না। আর যে সমাজে প্রত্যেকে নিজের ত্রুটি সংশোধনের বদলে অন্যের মুখোশ খোলাতেই ব্যস্ত থাকে, সে সমাজে নৈতিকতার আলোচনা বাড়লেও নৈতিকতার চর্চা বাড়ে না।

    তাই প্রশ্নটি শুধু ডিজিটাল ফেরেশতাদের নিয়ে নয়; প্রশ্নটি আমাদের প্রত্যেকের। আমার বক্তব্য ও আচরণ কি এক? আমি যে ন্যায়বিচার অন্যের কাছে প্রত্যাশা করি, নিজের ক্ষেত্রেও কি তা মেনে চলি? আমার প্রকাশ্য পরিচয়ের আড়ালে এমন কোনো স্বার্থ, অসততা কিংবা দ্বিচারিতা আছে কি, যা আমি নিজেই স্বীকার করতে চাই না?

    এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়ার জন্য সাহস প্রয়োজন। কারণ, অন্যের মুখোশ খুলে দেওয়া যতটা সহজ, নিজের মুখোশ খুলে নিজের প্রকৃত চেহারার সামনে দাঁড়ানো ততটাই কঠিন।

    মনে রাখতে হবে, ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হওয়া আর সত্যিকার অর্থে ভালো মানুষ হওয়া এক নয়। প্রথমটি প্রচারের মাধ্যমে অর্জন করা যায়; দ্বিতীয়টি অর্জন করতে হয় চরিত্র, সততা, দায়িত্ববোধ এবং নিজের ভুল সংশোধনের মধ্য দিয়ে।

    অতএব, ডিজিটাল ফেরেশতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামার আগে মানুষ হওয়াটাই জরুরি। অন্যের বিবেকের বিচার করার আগে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করা জরুরি। কারণ, সমাজের চোখে সাময়িকভাবে নিষ্কলঙ্ক হয়ে ওঠা সম্ভব হলেও, আত্মপ্রবঞ্চনার দেয়াল তুলে কোনো অন্যায়কে ন্যায় বানানো সম্ভব নয়।

    দিনশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—মানুষ আমাকে কী মনে করে, তা নয়; আমি নিজের কাজের নৈতিক দায় কতটা সততার সঙ্গে গ্রহণ করতে পারি?

    সেখানেই মুখোশের সঙ্গে মানুষের পার্থক্য। সেখানেই আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে আত্মশুদ্ধির যাত্রা শুরু। মহান আল্লাহ আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন।

    মুহাম্মদ আনিছুল ইসলাম আশরাফী
    লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

    অন্তরালে আত্মপ্রবঞ্চনা ডিজিটাল দিলে জানে পাপ ফেরেশতাদের মা জানে বাপ মুখোশের
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email
    amarsylhet
    • Website

    Related Posts

    শ্রীমঙ্গলে বিজিবি ও এসআরবির যৌথ অভিযান: ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় সিগারেট জব্দ

    October 24, 2026

    ভারতের জম্মু-কাশ্মীর কারাগারে সাজা শেষে দেশে ফিরলেন ৬ বাংলাদেশি যুবক

    October 24, 2026

    ​বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুলাউড়ায় সাবেক এমপি এএনএম ইউসুফের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

    October 23, 2026

    Comments are closed.

    টপ পোষ্ট

    শ্রীমঙ্গলে আনান প্যাক থেকে মরদেহ উদ্ধার,মৃত্যুর কারণ রহস্যজনক

    January 23, 20261,101 Views

    শ্রীমঙ্গলে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ নিহত, দুইজনের পরিচয় শনাক্ত

    March 31, 2026980 Views

    শ্রীমঙ্গলে সিএনজি শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর ভাবে আহত, সড়ক অবরোধ

    April 12, 2026951 Views
    সোশ্যাল মিডিয়া
    • Facebook
    • YouTube
    অন্যান্য
    বাংলাদেশ

    ‘মা জানে বাপ, দিলে জানে পাপ’: মুখোশের অন্তরালে ডিজিটাল ফেরেশতাদের আত্মপ্রবঞ্চনা

    By amarsylhetOctober 25, 20260
    আইন-শৃঙ্খলা

    শ্রীমঙ্গলে বিজিবি ও এসআরবির যৌথ অভিযান: ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় সিগারেট জব্দ

    By amarsylhetOctober 24, 20260
    বাংলাদেশ

    ভারতের জম্মু-কাশ্মীর কারাগারে সাজা শেষে দেশে ফিরলেন ৬ বাংলাদেশি যুবক

    By amarsylhetOctober 24, 20260
    Facebook YouTube
    • ভিডিও
    • রাজনীতি
    • সর্বশেষ
    © 2026 amarsylhet24.com

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.