জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি একটি প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে সভায় আমন্ত্রিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংসদ সদস্য। তবে তার রাজনৈতিক পদ-পদবি উল্লেখ করে তাকে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমন্ত্রণের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি তানজির আহমেদ রাসেল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় ইউএনও মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিরাজুল ইসলামকে দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ জানান জুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি তানজির আহমেদ রাসেল। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পদে থাকা কয়েকজন সাংবাদিক ‘জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাব’ নামে একটি সংগঠন পরিচালনা করতেন। ওই সংগঠনের সভাপতিও তখন উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তানজির আহমেদ রাসেলের ভাষ্য, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের পদধারী কয়েকজনকে আইন-শৃঙ্খলা কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সিরাজুল ইসলামকে সভায় দেখতে পেয়ে তিনি এর প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টিকে ‘ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার দাবি, প্রতিবাদের পর সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ তাকে বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতও এই কমিটিতে আছে। সরকার থেকে আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সবাইকে নিয়ে চলার জন্য। প্রজ্ঞাপনে যা-ই থাক, আমি নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি এটা করেছি।”
তানজির রাসেল বলেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সভা বর্জন করে চলে আসেন।
তবে বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ইউএনও মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী। তিনি বলেন, জুড়ীতে দুটি প্রেসক্লাব রয়েছে। একটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আগে থেকেই কমিটিতে ছিলেন। সংসদ সদস্যের নির্দেশে অন্য প্রেসক্লাবের সভাপতিকেও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সিরাজুল ইসলামের রাজনৈতিক পদ-পদবি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন।
এদিকে, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে দেশের উপজেলাগুলোর আইন-শৃঙ্খলা কমিটি সংশোধন ও পুনর্গঠনসংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতিকেও কমিটির সদস্য করার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
আইন-শৃঙ্খলা কমিটির অফিস আদেশে স্বাক্ষরকারী মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে. এম. ইয়াসির আরাফাত বলেন, একই পদের একাধিক ব্যক্তিকে সদস্য করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ইউএনও সরকারি নির্দেশনার বাইরে যাওয়ারও সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা সিরাজকে আওয়ামী লীগ হিসেবে আমন্ত্রণ জানাইনি, একটি প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।” স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ-পদবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সবাইকে নিয়ে চলার জন্য।”
তবে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপি বলেন, “এরকম কোনো নির্দেশনা সরকার দেয়নি। উনার কাছে এই ধরনের নির্দেশনা এসেছে কি না তা জানা নেই। যারা বিগত সময়ে মানুষের জানমাল ও ইজ্জত-আব্রু ধ্বংস করেছে, তারা এখন আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হবে কীভাবে?”
এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য নির্বাচন, প্রেসক্লাবের প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
