শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানে একটি বালুভর্তি ডায়ানা ট্রাকসহ বালু উত্তোলনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিন্ডিকেটের মূল হোতা হেকিম মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর নং-৩, জিআর নং-২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর, ভুরভুরিয়া ছড়া এবং আশিদ্রোণ ইউনিয়নের সাইটুলা (হেকিম মিয়ার লেবু বাগান) এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশিদ্রোণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাইটুলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মূল ফটক বন্ধ করে লেবু ব্যবসায়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের সত্যতা পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, শ্রীমঙ্গলের জালালিয়া রোডের বাসিন্দা মো. হেকিম মিয়া (৫৫) (পিতা- মৃত হাজি ইছরাইল মিয়া) এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন।
অভিযানকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব না হওয়ায় ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান করা যায়নি।
তবে অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে হেকিম মিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা তল্লাশি করে আনুমানিক ৩০০ ঘনফুট সদ্য উত্তোলিত বালুভর্তি একটি ডায়ানা ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৭১৮২) এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে ট্রাক ও আলামতগুলো হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে জব্দকৃত আলামতসহ মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে হেকিম মিয়াসহ জড়িতদের আসামি করে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ এবং ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী শ্রীমঙ্গল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
এদিকে একই দিনে রাধানগর ও ভুরভুরিয়া ছড়া এলাকাতেও পৃথক পরিদর্শন ও অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হয় এবং এ ধরনের পরিবেশবিনাশী অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
